Monday, 31 May 2021

চামলিজা মসজিদ: সুলতান এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের জানান দিচ্ছে যে স্থাপনা।

চামলিজা মসজিদ: সুলতান এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের জানান দিচ্ছে যে স্থাপনা

মসজিদের শহর হিসেবে ঢাকার পরিচয় থাকলেও রাজকীয় মসজিদের শহরের বিষয়ে যদি কথা উঠে তাহলে ইস্তাম্বুলকে ছাড়িয়ে যাবে এমন সাধ্য আর কোনো শহরের নেই। ইস্তাম্বুলের এই রাজকীয় মসজিদগুলোর প্রত্যেকটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে কোনো না কোনো অটোমান সুলতানের নাম। অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতানরা নিজেদের নামে অনিন্দ্য সুন্দর সব মসজিদ তৈরি করতেন যা শত শত বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। 

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, অটোমান শাসকের অর্থায়নে সর্বশেষ হামিদিয়ে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। ১৮৮৪-৮৬ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের ৩৪তম সুলতান দ্বিতীয় হামিদ নিজের নামে মসজিদটি তৈরি করেন। এরপর ১৯২৩ সালে যখন কামাল আতার্তুক ফ্রান্স থেকে ধার করে আনা ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করেন তারপর থেকে এরদোয়ানের আগ পর্যন্ত কোনো শাসকের তত্ত্বাবধানে বা নির্দেশে কোনো মসজিদ তৈরি হয়নি দেশটিতে।

আতার্তুক ক্ষমতায় থাকাকালীন তুরস্কের সরকার, রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে বিদায় করে পাশ্চাত্য মুখী এক রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৩৫ সালে আতার্তুক ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া মসজিদকে যাদুঘরে রূপান্তর করে আরো একবার রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কামাল পাশার আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ছিল রাজধানীকে ইস্তাম্বুল থেকে সরিয়ে আঙ্কারায় নিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে তিনি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আধুনিক তুরস্ক আর অটোমান সাস্রাজ্যের দিকে ফিরে যাবে না। বরং আতার্তুক পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে তুরস্কের ইসলামী ঐতিহ্যকে চরমভাবে ধ্বংস করেছিলেন। 

তুরস্কের আবারও ইসলামী ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার জন্য আতার্তুকের বিপরীত মতাদর্শী একজন নেতার প্রয়োজন ছিল। অবশেষে তুর্কিরা সেই নেতাকে খুঁজে পেয়েছে। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যিনি ইতোমধ্যে সুলতান এরদোয়ান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন। এরদোয়ান উঠে এসেছেন তুরস্কের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবার থেকে। সত্তরের দশকে ইসলামিক রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে যখন তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান তুরস্ক তখন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। এরপর ক্রমান্বয়ে তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র থেকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

বর্তমানে তুরস্কের রাজনীতি থেকে বিশ্ব রাজনীতি সবখানেই এরদোয়ানের দোর্দণ্ড প্রতাপ। সেক্যুলার তুরস্ককে ক্রমান্বয়ে ইসলামের দিকে ধাবিত করছেন তিনি। আতার্তুক যেখানে আয়া সোফিয়ার নামের পাশে থেকে মসজিদ নামটি কেটে দিয়েছিলেন, এরদোয়ান পুনরায় তা প্রতিস্থাপন করেছেন। এখানেই শেষ নয়। ১৯২৩ সালের পর থেকে তুরস্কের প্রথম শাসক হিসেবে গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণ করেছেন যার নাম 'চামলিজা মসজিদ', যা ইতোমধ্যে 'এরদোয়ান মসজিদ' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ যেখানে একসাথে ৬৩ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে ৩৫০০ স্কয়ার মিটারের আর্ট গ্যালারি, ৩০০০ স্কয়ার মিটারের কনফারেন্স হল, যেখানে একসাথে ১০৭১ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ভেতরে ৩৫০০ গাড়ী পার্কিং করার ব্যবস্থা আছে। চামলিজা মসজিদের স্ট্রাকচার থেকে শুরু করে দরজা জানালার কাঁচ ও রং পর্যন্ত অটোমান নকশায় তৈরি।

চামলিজা মসজিদ এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তিনি এক নতুন তুরস্ক প্রতিষ্ঠার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। যে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ইসলামিক ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজ গঠনের চেষ্টা করছে। এবং পাশ্চাত্য অভিমুখ থেকে সরে এসে প্রাচ্যের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরদোয়ানের চামলিজা মসজিদ অনেক বার্তা বহন করে। অটোমান সুলতানরা ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ নির্মাণ করতে পছন্দ করতেন। এতে করে মসজিদ পুরো ইস্তাম্বুল শহর থেকে দেখা যেতো। এরদোয়ানও সেই পথে হেঁটেছেন। বরং নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছেন। তিনি তার মসজিদ নির্মাণ করেছেন ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া 'চামলিজা'য়। এই চূড়ার নাম অনুসারেই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও লোকমুখে এখন তা এরদোয়ান মসজিদ নামেই পরিচিত।

চামলিজা মসজিদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তার মিনার সংখ্যা। এই মসজিদে মোট ৬টি মিনার রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মিনার ১০৭.১ মিটার উঁচু, যা ১০৭১ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে বিপক্ষে সেলজুকদের মানজিকার্ট যুদ্ধ জয়কে। বাকি দুইটি মিনারের উচ্চতা ৯০ মিনার। ইস্তাম্বুলে চামলিজা মসজিদ ছাড়া একমাত্র সুলতান আহমেদ মসজিদ বা ব্লু মস্কে ছয়টি মিনার আছে। 

চামলিজা মসজিদের ৭২ মিটার উঁচু গম্বুজ কয়েক মাইল দূর থেকে দৃষ্টিগত হয়, যা মূলত ইস্তাম্বুলের ৭২টি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় বহন করে। আর ৩৪ মিটার উঁচু গম্বুজ দ্বারা ইস্তাম্বুল শহরের গাড়ীর নম্বর প্লেটকে বুঝায় তথা ইস্তাম্বুলের পরিচয় বহন করে, যে শহরের সাধারণ মানুষ ১৯৯৪ সালে এরদোয়ানকে মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শহরের রূপ বদলে দিয়েছেন রাতারাতি। মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের সাফল্যই পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রের, সরকারের প্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেছে। একে একে জিতেছেন ১৩টি নির্বাচন। যা তুরস্কের রাজনীতির ইতিহাসের আর কোনো নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট। ইস্তাম্বুলে তার প্রতিষ্ঠিত সুলেমানিয়ের মসজিদের গম্বুজের উচ্চতা ৫৩ মিটার। যা আয়া সোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদকে ছাঁড়িয়ে এত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সুলতান সুলেমানের মসজিদকেও ছাড়িয়ে গেছে চামলিজা তথা এরদোয়ান মসজিদের গম্বুজ। তবে কী সুলতান এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান সুলেমানকেও ছাড়িয়ে যেতে চান? সম্ভবত তার রাজনৈতিক লক্ষ্য তেমনই। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল উত্তরে পোল্যান্ড, দক্ষিণে সোমালিয়া, পশ্চিমা মরক্কো আর পূর্বে ইরান পর্যন্ত। এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের হারানো প্রতিপত্তি কতটুকু উদ্ধার করতে পারবেন তা সময়ই বলে দিবে। তবে অটোমানদের একসময়ের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যে নতুন সুলতানের আগমন ঘটেছে তা পরিষ্কার। তিনি হলেন সুলতান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান৷

Saturday, 29 May 2021

আজকের দিনে ২৯ মে,১৪৫৩ সালে মুসলিমরা কনষ্টানটিনোপল (ইস্তানবুল ) বিজয় করেন হযরত মুহাম্মাদ সাঃ কনষ্টানটিনোপল বিজয় সম্পর্কে একটা ভবিষৎত বানী করেছিলেন "কনষ্টানটিনোপল একদিন বিজয় হবে আর কতই না উত্তম সেই সেনাপতি যে বিজয় অর্জন করবে আর কতই না উত্তম যারা এর অধিনে যুদ্ধ করবে আর সেই সেনাপতির নাম হবে একজন নবীর নামে"

আজকের দিনে ২৯ মে,১৪৫৩ সালে মুসলিমরা কনষ্টানটিনোপল (ইস্তানবুল ) বিজয় করেন 
হযরত মুহাম্মাদ সাঃ কনষ্টানটিনোপল বিজয় সম্পর্কে একটা ভবিষৎত বানী করেছিলেন 
"কনষ্টানটিনোপল একদিন বিজয় হবে আর কতই না উত্তম সেই সেনাপতি যে বিজয় অর্জন করবে আর কতই না উত্তম যারা এর অধিনে যুদ্ধ করবে আর সেই সেনাপতির নাম হবে একজন নবীর নামে" 

রাসুল সাঃ এর এই বরকতময় ভবিষৎত বানী পুরুন করার লক্ষ্যে বহু বার কনষ্টানটিনোপল অভিযান চালানো হয়, 
কিন্তুু বরাবরই সবাই ব্যর্থ হন।
অনেক অনেক সাবাহারা ও কনষ্টানটিনোপল অভিযানে অংশ নেন
এ জন্য হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাঃ সহ্ অনেক সাহাবা তাবেয়ী দের কবর ইস্তানবুলে রয়েছে।

কনষ্টানটিনোপল!!
গোল্ডেন হর্নের উপকূল বরাবর এই শহর টি প্রায় সাড়ে তিন মাইল লম্বা। কনষ্টানটিনোপলের চতুর্দিকে ছিলো প্রতিরক্ষা প্রাচীর। 
অবশ্য জল সীমানা বরাবর প্রাচীরের সংখা ছিলো একটি, 
শহরের উত্তর দিকের প্রাচীরটি মর্মর সাগরের তীর ঘেসে নির্মান করা হয়েছিলো। পাশেই ছিলো বিস্তীর্ণ মগ্নচুড়া এবং শৈলশ্রেনী । ফলে শত্রুপক্ষের নৌবহর গুলো সহজে প্রাচীরের নিকট আসতে পারতো না।

উসমানীয় খেলাফতের সপ্তম সুলতান ফাতিহ্ আল মুহাম্মাদ কনষ্টানটিনোপল অভিযান শুরু করেন ১৪৫৩ খ্রিঃ ৫ এপ্রিল 

শহরের প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার জন্য সুলতান,
আরবান নামক এক বন্দুক নির্মাতা কে কামান তৈরির আদেশ দেন, 
সুলতানের আদেশে আরবান একটা কামান তৈরি করেন যার লম্বায় ছিলো ২৬ ফুট ৮ ইন্ষ্ণি।
৮ ইন্ষ্ণি পুরু নলের প্রান্তভাগের পরিধি ছিল ৬ ফুট। সাধারন কামানের চেয়ে ১২ শতগুন ওজনের গোলক নিক্ষেপ করতে সক্ষম ছিলো এই কামান 
যা টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিলো ২০০ জন মানুষ এবং ৬০ টি শক্তিশালী ষাঁড় 

সুলতান, এবার তার নৌবহর কে ভিন্ন পথে গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করেন 
গোল্ডেন হর্নের উত্তর উপকূলের একটি স্থানের নাম কাশিম পাশা 
পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে কাঠ কেটে একটির পর একটি কাঠ সাজিয়ে ডোলমা বাচে থেকে কাশিম পাশা পর্যন্ত তৈরি করা হলো কাঠের রাস্তা 
প্রচুর চর্বি ঢেলে রাস্তাটি পিচ্ছিল করা হলো 
এই রাস্তা টিকে বলা যেতে পারে জাহাজের একটা দোলনা। 
তুর্কী সেনারা সুকৌশলে জাহাজ গুলো সমুদ্রবক্ষ থেকে তুলে এনে বসিয়ে দিলো দোলনা সাদৃশ্য কাঠের রাস্তার উপর 
জেনোসারীদের গোল্ডেন হর্নে প্রবেশের ৩৬ ঘন্টা পর বিপদ সংকেত বেজে উঠলো 
ড্রাম পিটিয়ে বাশি বাযিয়ে সজাগ করে দিল কনষ্টানটিনোপল এবং পেরার লোকজন দের 
তারা বিস্ময়ের সাথে অদ্ভুত এক শোভাযাত্রা দেখলো 
প্রায় ৭০ টির মত তুর্কি জাহাজ ২০০ ফুট উচু পাহাড় ডিঙ্গিয়ে নেমে আসছে গোল্ডেন হর্নে 

এভাবে অসাধারন রনকৌশল নিপুন যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে রাসুল সাঃ এর ভবিষৎত বানী পুরুন করে সুলতান ফাতিহ্ আল মুহাম্মাদ ২১ বছর বয়সে ১৪৫৩ সালে ২৯ মে কনষ্টানটিনোপল বিজয় করেন এবং এটির নামকরন করেন ইস্তানবুল।💝💝
তিনি কনষ্টানটিনোপলের দিকে তাকিয়ে বলেন 
"হে কনষ্টানটিনোপল হয়তো আমি তোমায় নেবো (বিজয় করবো) 
নয়তো তুমি আমায় নেবে (শহীদ করবে)"

লেখা:-Mehera Shah

সুত্র:-গৌরবদীপ্ত জিহাদ

Thursday, 27 May 2021

কামিনী ফুল

কামিনী ফুল 
‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি, দুটি যদি জোটে, অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী..’ বাঙালি অনেক ক্ষেত্রেই কথাটা পালন করে। তাইতো প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি ষড়ঋতুর বাংলার পথে-প্রান্তরে নানা বুনো ফুলের সমারোহ থাকতেও, সৌন্দর্য পিপাসুদের বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ফুল গাছ শোভা পায়। সন্ধ্যামালতী প্রকৃতিতে সন্ধ্যার বার্তা নিয়ে হাজির হয়। এক সময় রাতের ফুল নিয়ে ছিল নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা! ছাতিম ফুলের তীব্র গন্ধ নিয়ে ছিল নানা ভৌতিক কল্পকাহিনী! এখনো অনেকের বিশ্বাস; হাসনা হেনা ফুলের সুগন্ধে সাপ আসে কিন্তু সাপের শ্রবণ, ঘ্রাণ ও দৃষ্টি শক্তি অত্যন্ত দুর্বল ! গন্ধরাজের মন মাতানো হাওয়া। শিউলি ফুলের নানা ব্যবহার। বকুল ফুলের মালা। রাতের রানী নাইট কুইন অনেকের ছিল স্বপ্নের মতো, যা এখন প্রযুক্তির কল্যানে হরহামেশাই দেখা যায়-
মূল প্রসঙ্গে আসা যাক; রাতে ফোঁটা ফুলের মধ্যে কামিনীর সৌরভ অন্যরকম! তাইতো কত কবি শিল্পী সাহিত্যেক কামিনী ফুল নিয়ে কত কিছু রচনা করেছেন, তার কোন ইয়ত্তা নেই। এই লেখাটা হয়তো, সেই মহাসাগরে এক অঞ্জলি জল-
এক সময়; চিরহরিৎ কামিনীর পাতা ছাড়া অমর একুশের মালা তৈরি কল্পনা করা যেত না। করোনাকালে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কিছুটা হলেও কম, তাইতো স্বরূপে কামিনী! ফুলে ফুলে পাতা দেখা দায়! মনে হয়; তারা ভরা আকাশের কিছু অংশ ভর করেছে, এইড কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে! রাতের আধারে মিটিমিটি করে জ্বলে কামিনী, নিজের আলো না থাকলেও, অনেকটা চাঁদের মতোই। তাকে ঘিরে জোনাকি পোকার উদ্দেশ্যহীন উড়াউড়ি! গোটা কামিনী গাছটিকে জীবন্ত ছায়াপথ মনে হয়! সকালে ঝরাফুলের পাঁপড়িতে, বিস্তৃত এলাকা সাদা কার্পেটে ঢাকা! রাতের কামিনী দিনের বেলাতেও স্বমহিমায়! ফুলে ফুলে টুনটুনি, মৌটুসী ও মৌমাছিদের আনাগোনায় মুখরিত পরিবেশ! মাঝে মাঝে কামিনীর কমলা ও লাল বর্ণের ফল অপরুপ রঙ ছড়ায়। প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ বর্ণনা বা ক্যামেরায় ধারণ করা দুরহ! আধুনিক যুগেও প্রকৃতির কাছে সাহিত্য ও প্রযুক্তি ম্লান। তাই নিরর্থক সেই চেষ্টা না করে, বৃক্ষটির আদি ইতিহাস ও গুনাগুন সম্পর্কে কিছুটা জানা যাক;
কামিনী দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, চীন ও অস্ট্রালেশিয়ার স্থানীয় ফুল। এটি দক্ষিণ মার্কিন অঞ্চলের দেশীভূত। কামিনী সাধারনত সাত মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় । কামিনী ছোট, ক্রান্তীয়, চিরহরিৎ গাছ বা গুল্ম। এই গুল্ম সারা বছর ধরে ফুল ফোঁটাতে পারে। এর পাতা চকচকে হয়ে থাকে। ফুল সধারণত প্রান্তিক, অল্প-কুসুমিত, ঘন এবং সুগন্ধি হয়ে থাকে। পাপড়ি সাদা বা ক্রিম রঙে আবৃত্ত থাকে । ফুল ১২-১৮ মিলিমিটার দীর্ঘ হয়। কামিনী বেদনানাশক হিসেবে ঐতিহ্যগত ঔষধ এবং কাঠের জন্য ব্যবহার করা হয়। কামিনীর পাতার অশোধিত ইথানলীয় সার, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য জ্বলনশীল ব্যথার নিরাময় হিসেবে কাজ করে।
কামিনীর বৈজ্ঞানিক নাম: Murraya paniculata, ইংরেজি: orange jasmine, orange jessamine, china box or mock orange. বা কমলা জুঁই নামেও পরিচিত! একধরনের ক্রান্তীয়, যা ছোট, সাদা, সুবাসিত ফুল জন্মদানের মাধ্যমে শোভাময় বৃক্ষ হিসেবে বর্ধিত হয়। কামিনী ঘনিষ্ঠভাবে লেবুবর্গের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কামিনীর লাল-কমলা আকারে ছোট ফল হয়, তবে কিছু প্রজাতি ফল উৎপাদন করে না। কামিনী বীজ দ্বারা প্রসারিত হয়। কামিনীর ফল কমলা থেকে লাল বর্ণের, এক ইঞ্চি পর্যন্ত আয়তাকার-ডিম্বাকার রসালো হয়। যা বিভিন্ন পাখির প্রিয়। পাখির মলত্যাগের প্রকৃতিক প্রক্রিয়ার বীজ হতে চারা অঙ্কুরিত হয়! 
এইভাবে কামিনীর বিকাশ ঘটে কিন্তু আধুনিক যুগে কামিনীকে বিভিন্ন রূপে দেখা মেলে! মানুষের শৌখিনতার কোন শেষ নেই । তাই নির্বিচারে বৃক্ষ কুলের জিনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে। এই ভাবেই হয়তো, বাঙালির পাঁচশত প্রজাতির ধানের মতোই হারিয়ে যাবে, আদি অকৃত্রিম প্রকৃতিক অনেক বৃক্ষ। তাই বৃক্ষপ্রেমীদের এখনই সচেতন হবার সময়..

ইসরাইল এত এত আবিস্কার করছে। কিন্তু মুসলিমরা আজ কোথায়?

ইসরাইল এত এত আবিস্কার করছে
কিন্তু মুসলিমরা আজ কোথায়?

এগুলি ইদানীংকালের (মুনাফিকদের) কমন প্রশ্ন...

মুসলিম বিজ্ঞানী আছে,গবেষকও আছে।কিন্তু সমস্যা হল উদীয়মান কোন মুসলিম বিজ্ঞানী বা গবেষক তার আবিস্কার শুরু করলেই তার নাম উঠে যায় মোসাদের হিটলিস্টে।তাকে হত্যার জন্য পাগলপারা হয়ে যায় মোসাদ।বিগত কয়েক দশকে মোসাদ হত্যা করেছে শতাধিক মুসলিম বিজ্ঞানী ও গবেষককে।

তিউনিসিয়ার ড্রোন ডিজাইনার বিজ্ঞানী মোহাম্মাদ জাউয়ারিকে হত্যা করেছে মোসাদ। হামাসের পক্ষে কাজ করতেন তিনি।

ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানী আরদাশীর হাসান বাউর মোসাদ এজেন্টদের হাতে নিহত হয়।

ইরাকের পরমাণু কর্মসূচী যখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে তখন ইসরাইলের মোসাদ হত্যা করে ইরাকের পরমাণু প্রকল্পের প্রধান ড. ইয়াহিয়া আমীনকে।

লেবাননের পদার্থবিদ্যাবিদ রাম্মাল হাসানকে হত্যা করে মোসাদ।

মিসরীয় পরমাণু বিজ্ঞানী ড. সামীর নাগিবকে হত্যা করে মোসাদ। মিসরীয় বিজ্ঞানী সাঈদ আল বুদায়েরকে হত্যার সাথেও মোসাদ জড়িত।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্নায়ু বিজ্ঞানী ড. আফিয়া সিদ্দিকার উপর নির্যাতনের কথা তো সবাই-ই জানি।তার উপর নির্যাতনের সাথেও মোসাদ জড়িত।

কয়েকদিন আগে মালেয়শিয়ায় ফিলিস্তিনের মেধাবী রকেট বিজ্ঞানী ফাদি আল-বাত্‌শ হত্যার সাথেও মোসাদ জড়িত।

মোসাদের হাতে নিহত এরকম অসংখ্য মুসলিম বিজ্ঞানী,পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষক রয়েছেন যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে অনেক মুসলিম দেশই পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হত।কিন্তু ইসরাইলের সন্ত্রাসের কারণে তা হয়নি।ইহুদী ইসরাইলের মেধার চাইতে বেশী জোর রয়েছে সন্ত্রাসবাদের।সেই সন্ত্রাসবাদের জোরেই তারা কোন মুসলিম বিজ্ঞানীকে বাঁচতে দিচ্ছেনা।ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার জন্য অত মেধা লাগেনা।

মুসলিম দেশের কোন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মত কাজ করলে আমরাই তখন তাদের জঙ্গি তকমা লাগিয়ে দিতাম কিন্তু আজ মোসাদকে জঙ্গি বলা হচ্ছেনা বরং তাদের সন্ত্রাসবাদকে পিছনে রেখে তাদের মেধার গুণগান করা হচ্ছে।

History of Muslim'S

🌐 হজ্জ কিংবা উমরাহ করতে যাঁরা মক্কায় হারাম শরীফে গিয়েছেন, তাঁরা সবাই নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন- চামড়া পোড়ানো প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করার সময় পায়ের তলাটা পুড়ে যায় না, বরং বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।

🌐 হজ্জ কিংবা উমরাহ করতে যাঁরা মক্কায় হারাম শরীফে গিয়েছেন, তাঁরা সবাই নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন- চামড়া পোড়ানো প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করার সময় পায়ের তলাটা পুড়ে যায় না, বরং বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।
কারণ,
এর নেপথ্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল (১৯০৮-২০০৮) একজন মিশরীয় প্রকৌশলী ও স্থপতি; লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মিশরের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী- যিনি হাইস্কুল শেষে ‘রয়েল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভর্তি হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইউরোপে পাঠানো ছাত্রদের ভেতরেও তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ, ইসলামি আর্কিটেকচার-এর ওপর তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রথম মিশরীয় প্রকৌশলী।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল প্রথম প্রকৌশলী- যিনি হারামাইন (মক্কা-মদিনা) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান করার জন্য সৌদি বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন গ্রুপের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি; মোটা অংকের চেক উনি ফিরিয়ে দেন! তাঁর সততা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে বাদশাহ ফাহাদ, বাদশাহ আব্দুল্লাহসহ সকলের প্রিয়পাত্র ও বিশেষ আস্থাভাজন করে তোলে।

তিনি বাকার বিন লাদেনকে বলেছিলেন, এই দু’টি পবিত্র মসজিদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিলে শেষ বিচারের দিনে আমি কোন মুখে আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো?

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পুরোটা জীবন আল্লাহর ঘর রক্ষণাবেক্ষণে উৎসর্গ করেন। অর্থ-বিত্ত, খ্যাতি-যশ, মিডিয়ার লাইম লাইট থেকে দূরে সরে থেকে তিনি তাঁর ১০০ বছরের জীবনের পুরোটা সময় মক্কা ও মদীনার দুই মসজিদের সেবায় বিনিয়োগ করে গেছেন।

মক্কা-মদিনার হারাম শরীফের মার্বেলের কাজের সঙ্গে উনার জীবনের একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। উনি চেয়েছিলেন- মাসজিদুল হারামের মেঝে তাওয়াফকারীদের জন্য এমন মার্বেল দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিতে- যার বিশেষ তাপ শোষণ ক্ষমতা রয়েছে। এই বিশেষ ধরনের মার্বেল সহজলভ্য ছিল না। এই ধরনের মার্বেল ছিল পুরো পৃথিবীতে কেবলমাত্র গ্রিসের ছোট্ট একটি পাহাড়ে।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল গ্রিসে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিস্বাক্ষর করে মক্কায় ফিরে এলেন এবং সাদা মার্বেলের মজুদও চলে এলো। যথাসময়ে বিশেষ নকশায় মাসজিদুল হারামের মেঝের সাদা মার্বেলের কাজ সম্পন্ন হলো।

এর ঠিক ১৫ বছর পরে সৌদি সরকার তাঁকে মাসজিদুন নব্বীর চারদিকের চত্বরও একইভাবে সাদা মার্বেল দিয়ে ঢেকে দিতে বললেন। কিন্তু ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল দিশেহারা বোধ করলেন! কেননা ওই বিশেষ ধরনের মার্বেল কেবলমাত্র গ্রিসের ওই ছোট্ট জায়গা বাদে গোটা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় না এবং সেখানে যতটুকু ছিল, তার অর্ধেক ইতোমধ্যেই কিনে মক্কার হারাম শরীফে কাজে লাগানো হয়ে গেছে। যেটুকু মার্বেল অবশিষ্ট ছিল- সেটা মাসজিদুন নব্বীর প্রশস্ত চত্বরের তুলনায় সামান্য!

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল আবার গ্রিসে গেলেন। সেই কোম্পানির সি.ই.ও-র সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন, ওই পাহাড় আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? সি.ই.ও জানালেন, ১৫ বছর আগে উনি কেনার পরপরই পাহাড়ের বাকি অংশটুকুও বিক্রি হয়ে যায়! এই কথা শুনে তিনি এতটাই বিমর্ষ হলেন যে, তাঁর কফি পর্যন্ত শেষ করতে পারলেন না! সিদ্ধান্ত নিলেন- পরের ফ্লাইটেই মক্কায় ফিরে যাবেন। অফিস ছেড়ে বেরিয়ে আসার আগে কী মনে করে যেন অফিস সেক্রেটারির কাছে গিয়ে সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা জানতে চাইলেন- যিনি বাকি মার্বেল কিনেছিলেন।

যদিও এটা অনেক দুরূহ কাজ, তবু কামালের পুনঃপুন অনুরোধে সে পুরোনো রেকর্ড চেক করে জানাবে বলে কথা দিলো। নিজের নাম এবং ফোন নম্বর রেখে বেরিয়ে আসার সময় কামাল মনে মনে ভাবলেন- কে কিনেছে, ১৫ বছর পরে তা জেনেই-বা আর লাভ কী?
পরদিন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে অফিস সেক্রেটারি ফোনে জানাল, সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে! কামাল ধীর গতিতে অফিসের দিকে যেতে যেতে ভাবলেন- ঠিকানা পেয়েই-বা লাভ কী? মাঝে তো অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে...।

অফিসে পৌঁছলে সেক্রেটারি তাঁকে ওই ক্রেতার নাম-ঠিকানা দিলেন। ঠিকানা হাতে নিয়ে ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইলের হৃদ্স্পন্দন বেড়ে গেল, যখন তিনি দেখলেন- বাকি মার্বেলের ক্রেতা একটি সৌদি কোম্পানি!

কামাল সেদিনই সৌদি আরব ফিরে গেলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি কোম্পানির ডিরেক্টর এডমিন-এর সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন- মার্বেলগুলো দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, যা অনেক বছর আগে গ্রিস থেকে কিনেছিলেন?

ডিরেক্টর এডমিন প্রথমে কিছুই মনে করতে পারলেন না। কোম্পানির স্টক রুমে যোগাযোগ করে জানতে চাইলেন- ১৫ বছর আগে গ্রিস থেকে আনা সাদা মার্বেলগুলো দিয়ে কী করা হয়েছিল? তারা খোঁজ করে জানাল- সেই সাদা মার্বেল পুরোটাই স্টকে পড়ে আছে, কোথাও ব্যবহার করা হয়নি!
এই কথা শুনে কামাল শিশুর মতো ফোঁপাতে শুরু করলেন। কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি পুরো ঘটনা কোম্পানির মালিককে খুলে বললেন। ড. কামাল ওই কোম্পানিকে সৌদি সরকারের পক্ষে একটি ব্লাংক চেক দিয়ে ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে নিতে বললেন। কিন্তু কোম্পানির মালিক যখন জানতে পারলেন- এই সাদা মার্বেলে রাসূল (সা.)-এর মসজিদ চত্বর বাঁধানোর জন্য ব্যবহৃত হবে, তৎক্ষণাৎ তিনি এর বিনিময় মূল্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন, আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আমাকে দিয়ে এটা কিনিয়েছিলেন আবার তিনিই আমাকে এর কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন; কেননা এই মার্বেল রাসূল (সা.)-এর মসজিদের উদ্দেশ্যেই এসেছে…!
        
 (সংগৃহীত এবং কপিকৃত।)

Wednesday, 26 May 2021

বৃটিশ কর্তৃক বাংলাদেশে তথা বাঙ্গদেশে ম্যাগনেটিক পিলার স্থাপনের রহস্য।

বৃটিশ কর্তৃক এদেশে ম্যাগনেটিক পিলার স্থাপনের রহস্য।

ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে অনেক গুজব ও জনশ্রুতি আছে, এই প্রাচীন ‘ম্যাগনেটিক পিলার' স্থাপন নিয়ে। কেউ কেউ এটিকে প্রাচীন মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার বলে আখ্যায়িত করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন এর মাধ্যমে বৃটিশরা আসলে এদেশের সব গোপন তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়।

তবে আসল ঘটনা হচ্ছে- এদেশে বৃটিশদের শাসনের সময়কালে সীমানা পিলার গুলো ফ্রিকুয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব মেপে মাটির নীচে পুতে রাখা হয়েছিলো। যেগুলোর মধ্যে পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়াম সহ ধাতব চুম্বক সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কারনে বজ্রপাত হবার সময়ে ইলেকট্রিক চার্য তৈরী হয় সেটি সরাসরি এই পিলার গুলো শোষন করে আর্থিং এর কাজ করতো। এতে করে বজ্রপাত হতো কিন্তু মানুষ মারা যেতোনা।

অসাধু কিছু লোক এই পিলার গুলো অনেক দামে বিক্রি করা যায় এরকম গুজব ছড়ায়। এ কারনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পিলারগুলো নিষ্চিন্ন হয়ে গেছে। কিছু লোক এগুলোকে মহা-মুল্যবান বলে অপপ্রচার করে খুঁজে বের করে চুরি করে নিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে কেউ ই সীমানা পিলার বিক্রি করে বহু টাকা উপার্জন করার উদাহরণ দেখাতে পারেনি ।

সীমান্ত পিলার গুলোর মধ্যে থাকা তামা, পিতল, টাইটেনিয়াম জাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরী বলে এগুলো বিদ্যুত সু-পরিবাহি হয়ওয়াতে একে মহা মুল্যবান বলে অপপ্রচারের ফলে এসব পিলার চুরি হতে থাকে।

বৃটিশ শাসন আমলে বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য এই প্রযুক্তির পিলার গুলো সারা দেশ জুড়ে মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট দুরত্ব পর পর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে মেপে।( এবং এ পিলারের রেডিও ইলেট্রনিক্স তরঙ্গের সাহায্যে ভূমি জরিপ ও ম্যাপ প্রস্তুতে করতে এবং এটি বিমান চলাচলেও সহযোগিতা করত সে সময় ) এখন যেমন মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর সময় একটা থেকে আরেকটার দুরত্ব আর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে ম্যাপ করে বসানো হয় ।
আগেকার আমলে বজ্রপাতে নিহত হবার সংখ্যা ছিল অনেক কম যেটি এখন এতটা বেড়ে গেছে যে, মানুষ রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গেছে । এখন নিশ্চই সবাই বুঝতে পারছেন কেন বৃটিশ আমলে এগুলো মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিলো।

বজ্রপাতে মৃত্যু রোধকল্পে সরকারকে বৃটিশদের মতো করে পিলার স্থাপনের উদ্দোগ আবার গ্রহণ করা উচিত বলেও মতামত দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

Tuesday, 25 May 2021

টাইটানিক ডুবে যাক, হাজার হাজার যাত্রী মরে যাক ৷ জ্যাক ও রোজ বেঁচে থাক ! কেন??

টাইটানিক জাহাজে যাত্রী সংখ্যা ছিলো ২২৩০ জন, জীবিত উদ্ধার হয়েছিল ৭০৬ জন,ডুবে প্রাণ হারায় মোট ১৫২৪ জন যাত্রী ৷
টাইটানিক মুভিতে দেখা যায়, অধিকাংশ যাত্রী পানিতে ডুবে মারা যায় ৷ কিন্তু মুভির হিরো "জ্যাক" বরফ শীতল পানিতে শূণ্য ডিগ্রি তাপমাত্রার কারণে মারা যায় ৷
.একজন দর্শক যখন মুভিটি দেখে তখন তিনি জ্যাকের মৃত্যুতে যতটা শোকাহত হন, জাহাজের অন্যান্য যাত্রীদের জন্য তার ততটা শোক হয় না ৷ তখন দর্শকের অবস্থা হয় এমন যে, সব মরে যাক তবুও
নায়ক জ্যাক বেঁচে থাক ৷
.
কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন, কেনো এমন হলো? মানুষ হিসেবে সকল যাত্রীর মৃত্যুতে সমান দুঃখ পাবার কথা ছিলো ৷ অথচ নায়ক জ্যাকের প্রতি দর্শকের এতো দরদ হয় কেনো?
.
জ্যাক একজন জুওয়ারী, মদ্যপ, ধুমপায়ী, অশ্লীল ছবি অঙ্কনকারী, সর্বপরি জ্যাক এজন ব্যভিচারী ৷ এতকিছুর পরও দর্শকের কাছে জ্যাকের জীবন অন্যদের চেয়ে বেশি মূল্য রাখে কেনো?
.
উত্তর খুবই সহজ, প্রযোজক ক্যামেরাটি শুধু "জ্যাক ও রোজ"এর দিকে ফিরিয়ে রাখে ৷ ফলে দর্শকের মনেহয়, জাহাজে যাত্রী শুধু ওরা দুজনিই ৷ কিন্তু একই সময় ক্যামেরার অপর প্রান্তে হাজার হাজার নারী ও শিশুর চিৎকার ও আর্তনাদ দর্শকের কানে পৌঁছে না ৷ ফলে দর্শক তা অনুধাবনের চেষ্টাও করে না ৷
.
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনও এমন ৷ আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্সে সামান্য ককটেল ফুটলেই মিডিয়া তা কয়েক সপ্তাহ হাইলাইট করতে থাকে ৷ কিন্তু একই সময় এই মিডিয়ার অপর প্রান্তে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান,  ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনে প্রতি দিন শত শত বোমা ফেলা হচ্ছে ৷ হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে ৷ তাদের মর্মভেদী আর্তনাদ আকাশ বিদীর্ণ করে আরশে পৌঁছে যায় ৷ শুধু পৌঁছে না আমাদের কর্ণ কুহরে ৷
.
পৃথিবীর সকল পাপের উৎস এই পশ্চিমারা ৷ ওরাই মানুষকে শিখিয়েছে সমকামিতা, পশুকামিতা, লিভটুগেদার আরো কত কী ৷ ওরা হিরশিমা ও নাগাসাকিতে তিন লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে ৷ ইরাকে দশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে ৷ আফগানিস্তানে ওদের হত্যাযজ্ঞ এখনো চলছে ৷ এতকিছুর পরও পশ্চিমারা আমাদের চোখে হিরো ৷
.
টাইটানিক ডুবে যাক, হাজার হাজার যাত্রী মরে যাক ৷ জ্যাক ও রোজ বেঁচে থাক !

যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে,অবশ্যই তার হবে সংকীর্ণতাময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
সূরা:( ত্বা-হা - ১২৪)

#Save_Palestine 
#SaveAqsa 
#SaveMuslims 
#bangladeshstandswithpalestine

Monday, 24 May 2021

'হামাস' কি এবং কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

'হামাস' কি এবং কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

মিশরের রাজনৈতিক দল (বর্তমানে নিষিদ্ধ) মুসলিম ব্রাদারহুডের ফিলিস্তিন শাখা দল হিসেবে ১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনের গাজা শহরে 'ফিলিস্তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড' নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।

শেখ আহমেদ ইয়াসিন, আব্দুল আজিজ রানতিস্সি, মাহমুদ জহর, ইব্রাহিম কুকা, মোহাম্মদ তা'হা সহ আরো পাঁচজন মিলে সংগঠনটি তৈরি করেন, তখন যার প্রধান করা হয় শেখ ইয়াসিন কে।
(শেখ ইয়াসিন বাল্যকাল থেকেই শারিরীক ভাবে পঙ্গু ছিলেন, হাত পা দিয়ে কোন কাজ করতে পারতেন না, হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতেন। তবে তিনি কথাবার্তা বলতে পারতেন এবং তিনি ছিলেন অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত এবং মেধাবী ছাত্র। তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে পড়ার সময় প্রতিবেশী সহপাঠী বন্ধুর সাথে খেলতে গিয়ে ধস্তাধস্তি/ মারামারি করতে গিয়ে ঘাড়ে (স্পাইনাল কর্ড) ব্যথা পেয়ে আহত হন। অনেক চিকিৎসার পরও তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। তার ঐ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সন্মানার্থে তার পরিবারকে তিনি কখনোই তার ব্যথা পাওয়ার ঘটনাটি বলেননি। তার শংঙ্কা ছিল ঘটনা জানাজানি হলে তার পরিবার- বন্ধুর প্রতি বা তার পরিবারের প্রতি নাখোশ হতে পারে এজন্য তিনি বিষয়টি চেপে যান, তবে ৩০ বছর পর কে বা কারা বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়। ২২ মার্চ ২০০৪ সালে গাজায় দখলদার ইসরাইলী সন্ত্রাসীদের 'টার্গেট কিলিং' হামলায় তিনি নিহত হন)

পরবর্তীতে দলটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় - حركة المقاومة الاسلامية (Harakat Al-Muqawamah Al-Islamiyyah - হরকাতুল মুক্বাওয়ামাহ্ আল ইসলামিয়া, ইংরেজিতে এর অর্থ- Islamic Resistance Movement। বাংলায় যার সরল অর্থ দাড়ায়- দখলদার ইসরাইলী ইহুদিদের বিরুদ্ধে ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন।

এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হলো- স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা, ইসরাইল নামক কথিত রাষ্ট্রের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো, ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্রকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা এবং দখলকৃত সমস্ত ভূমি উদ্ধার করে পুরো এলাকা নিয়ে একটি ইসলাম রাষ্ট্র গঠন করা। দলটির তিনটি বিভাগ রয়েছে- যথা- রাজনৈতিক, সমাজসেবা এবং সামরিক বিভাগ।

১৯৯৩ সালে দলটি (Izz ad Dinn Al Qassam Brigade- ইজ আদ্ দীন আল কাসাম ব্রিগেড বা সংক্ষেপে আল কাসাম নামে একটি নিজস্ব মিলিটারি সংগঠন বা সামরিক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। যেখানে বর্তমানে নিবন্ধিত ২০ হাজার সেচ্ছাসেবী যোদ্ধা রয়েছে, যারা কোন বেতন নেন না। বর্তমানে আল কাসাম ব্রিগেডের প্রধান- মোহাম্মদ দিয়েফ এবং উপপ্রধান মারওয়ান ঈশা।

শতভাগ সুন্নি মতাবলম্বী এই দলটির আয়ের প্রধান উৎস হলো সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদান, আন্তর্জাতিক (অমুসলিম/ মুসলিম) সংস্থার আর্থিক অনুদান, ইরান এবং লেবাননের সামরিক খাতে অনুদান ইত্যাদি। 

দলটি তাদের বৈদেশিক অনুদান গুলো কঠোর ভাবে খাত অনুযায়ী খরচ করে থাকে। অর্থাৎ রাজনৈতিক খাতে পাওয়া একটি টাকাও সামরিক খাতে ব্যয় করেনা এবং তদ্রূপ সব খাতেও একই নীতি অবলম্বন করে। গাজা অঞ্চলের শিক্ষা খাত, নারী শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অবকাঠামো নির্মাণে ফিলিস্তিন সরকারের মোট বার্ষিক অনুদানের কয়েকগুণ বেশি অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করে এই রাজনৈতিক দলটি।

দলটির বার্ষিক বাজেট প্রায় ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০০ কোটি টাকা)। যার প্রায় ৮৫% আসে দেশের বাইরে থেকে।

এছাড়াও বাহরাইন কাতার সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরব কুয়েত জার্মানি রাশিয়া ফ্রান্স থেকে বিভিন্ন খাতে আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে। গাজা অঞ্চলে প্রায় ২০০০ একর ওয়াকফ কৃত কৃষি জমি রয়েছে এই দলটির মালিকানায়। তাছাড়া আল আকসা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকের ২০% শেয়ার, রিয়েলস্টেট ব্যবসা, এপার্টমেন্ট ও মার্কেট ভাড়ার ইত্যাদি ব্যবসা থেকে দলটি আয় করে থাকে।

সবুজ রংয়ের উপর সাদা কালিতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্' লেখা সম্বলিত একটি নিজস্ব পতাকা রয়েছে এই দলটির। একটি স্বীকৃত নিজস্ব প্রতীক এবং একজন মুখপাত্র রয়েছে।

২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জিতার পর দলটির বর্তমান নেতা ইসমাইল হানিয়া'র নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। তথাপি আন্তর্জাতিক চাপ এবং 'অর্থনৈতিক অবরোধের' ফলে এক বছরের মধ্যেই হামাস সরকার ভেঙে যায়। নির্বাচিত সরকারি দল হলেও হামাসের তখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়ায়- পৃথিবীর অনেক দেশ এই রাজনৈতিক সংগঠনটিকে "সন্ত্রাসী সংগঠন" হিসেবে কালো তালিকাভূক্ত করেছে ফলে ফিলিস্তিন সরকারের হয়ে বৈদেশিক অনুদান, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পেতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান ফিলিস্তিন সংসদে ৭৪ টি আসন রয়েছে ( মোট আসন ২৩২ টি)।

★ হামাস কে যেসব দেশ 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে অবহিত করেছে- যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ টি সদস্য দেশ, কানাডা এবং দখলদার ইসরাইল। 

★ অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড প্যারাগুয়ে এবং যুক্তরাজ্য (UK) হামাস কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অবহিত করেনা তবে শুধু এর সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে অবহিত করে।

★ ব্রাজিল চীন নরওয়ে রাশিয়া সিরিয়া ইরান তুর্কি মিশর কাতার- এই দেশ গুলো অফিসিয়ালি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কোন ভাবেই মনে করেনা যে হামাস একটি 'সন্ত্রাসী সংগঠন'।

★ ২০১৮ সালে জাতিসংঘ হামাস কে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। (যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে হামাস কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করলে সাধারণ পরিষদ তা বাতিল করে দেয়)
 
★ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া সহ অনেক দেশ হামাস কে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং অস্বীকৃতিও জানায়নি। অর্থাৎ অফিসিয়ালি বিষয়টি ঘোষিত হয়নি।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে হামাসের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সবচেয়ে বড় সমর্থক দেশ ইরান হামাসকে সিরিয়ার শিয়া পন্থী প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত হয়ে তারপক্ষে কাজ করার আহ্বান জানায়। হামাস তা করতে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে ইরানের সাথে সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়ে। ইরান বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি এবং ইরান তাদের অনুগত লেবাননের হিজবুল্লাহ্ কে নির্দেশ দেয় যেন লেবানন থেকে হামাসের সকল সদস্যকে বিতাড়িত করে। হিজবুল্লাহ্ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
তথাপি ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে ইরানের অন্যায় ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে হামাস। এতে ইরান ক্ষুব্ধ হয় এবং সকল প্রকারের সহায়তা বন্ধ করে দেয়।
ফলে হামাস সামরিক দিক থেকে অনেকটা দূর্বল হয়ে পরে এবং খুবই ঘনিষ্ঠ দুটি মিত্রকে হারায়!

তবে ন্যায়ের পক্ষে হামাসের এমন দৃঢ় নীতির কারণে আন্তজার্তিক অঙ্গনে হামাসের সমালোচকরা হামাসকে 'চিনতে' শুরু করে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশের রাজনৈতিক দল হামাসের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।

তথাপি, পূর্বে এবং পরে আজ পর্যন্ত হামাস দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধে (ইন্তিফাদা) অবতীর্ণ হয়ে তাদের অঙ্গীকার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং আল আকসা'র সন্মান রক্ষার্থে অবিচল রয়েছে। হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন যুদ্ধে পরাজিত হয়নি এবং আত্মসমর্পণ করেনি, এমনকি নিজ থেকে প্রথমে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবও দেয়নি!
ধন্যবাদ

মাসুদ আলম 
৮-০৫-২০২১

ফাতাহ মুভমেন্ট এবং হামাস

ফাতাহ মুভমেন্ট এবং হামাস

ফিলিস্তিনের প্রধান দুটি শহর৷ একটি ওয়েস্ট ব্যাংক অন্যটি গাজা৷ ওয়েস্ট ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ মুভমেন্ট। এরা সকলে ইয়াসির আরাফাতের অনুসারি। আর যে গাজা ভূখণ্ড থেকে রকেট ছোঁড়া হচ্ছে ইজরাইলের দিকে তা নিয়ন্ত্রণ করে হামাস। সারা বিশ্ব মূলত ফাতাহকে ফিলিস্তিনিদের বৈধ কর্তৃপক্ষ বলে মনে করে থাকে। অন্যদিকে হামাসকে মনে করে জঙ্গি সংগঠন। সব থেকে অবাক করা ব্যাপার হলো ফাতাহ আর হামাসের সম্পর্ক সাপে নেউলে! যে দেশটি বহু বছর ধরে অত্যাচারিত হয়ে আসছে কেন ফিলিস্তিন কোন কার্যত সাফল্যজনক অবস্থানে যেতে পারছে না?  

ফাতাহ মুলত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত একটি রাজনৈতিক দল৷ অনেক আগে থেকে এইদলটি ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে বিদ্যমান৷ কিন্তু ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর ফাতাহ ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের জন্য কার্যত কোন ব্যবস্থা আজও নিতে পারে নি৷ ফাতাহকে অর্থায়ন করে সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন,জর্ডান তথা আরব বিশ্বের ধনী দেশগুলো৷ অন্যদিকে হামাস হলো সশস্ত্র মিলিশিয়া ভিত্তিক দল৷ যার মূল সাহায্যকারী ইরান৷ এছাড়া কাতার ও তুরস্ক থেকে তারা অর্থ এবং অন্যান্য সহায়তা পায়। আসলে ফিলিস্তিনে সমস্যা কি? তাদের তো মূল লক্ষ ইসরায়েলের সাথে সংগ্রাম করে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র কায়েম করা৷ তাদের ভূখণ্ড ফিরিয়ে নেয়া৷ কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত মার খেয়েই যাচ্ছে৷ দখল হয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের অনেক এলাকা৷ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দলটি মূলত ইসরায়েলের ও সৌদি আরবের কাছে গৃহবন্দী৷ তারা না পারছে ফিলিস্তিনের কোন উন্নয়ন করতে না পারছে ইসরায়েলের হামলা দখলদারী প্রতিরোধ করতে। সৌদি আরব যে ফিলিস্তিনের জন্য কি করবে এইটা সবার এখন জানা৷ বাস্তবতা হলো মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ এর কার্যত কোন অস্ত্র নেই৷ নেই কোন ক্ষমতা৷ কার্যত এরা ইসরায়েলের সাথে বিভিন্ন চুক্তিতে বন্দি। তারা আরব ধনী দেশগুলোর গোলামে পরিণত হয়ে গেছে অনেক আগেই৷ তাই ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংক ফিলিস্তিনের হলেও তার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে৷ মাহমুদ আব্বাসকে আজাইরা আব্বাস বললেও ভুল হবে না৷ এবার আসা যাক গাজার হামাসের কথায়৷ ইসরায়েল হামাসকে ফাতাহ এর মতো নানা রকম চুক্তি করতে বলেছিলো৷ কিন্তু হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন৷ এর জন্য গাজাবাসীদের অনেক মূল্যও দিতে হচ্ছে৷ গাজা এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ৷ গাজাকে জেলখানার মতো বানিয়ে রেখেছে ইসরাইল। ইসরায়েলের সাথে চুক্তি না করায় হামাসকে বিশ্বে জঙ্গি সংগঠন বানিয়েছে পশ্চিমারা। তার সাথে হামাস ইরানের মিত্র। আগেই বলেছি হামাসের সব সহায়তা আসে ইরান ও কাতার থেকে৷ হামাসের সকল অস্ত্র ইরানের৷ হামাস অর্থ সহায়তা পায় কাতার থেকে৷ তারা মূলত একটি মিলিশিয়া দল৷ হামাস অনেক আগে গঠিত হলেও ২০০৫ সালে তারা ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে আসে ৷ ২০০৬ সালে হামাস ফিলিস্তিনের নির্বাচনে জয়লাভ করে৷ কিন্তু ইরানপন্থি দল হওয়ায় ফাতাহ তাদের জয় মেনে নেয় নি৷ ফলে ফাতাহ ক্ষমতা নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে ২০০৬ সালে ফাতাহ আর হামাসের সংঘর্ষ হয়৷ হামাস ফাতাহকে গাজা থেকে বিতারিত করে গাজার একচ্ছত্র আধিপত্য নেয়। অন্যদিকে ওয়েস্ট ব্যাংক এর আধিপত্য চলে যায় ফাতাহ এর কাছে৷ হামাস চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সাথে লড়তে৷ তারা ইসরায়েলের হামলা গুলোর জবাবও দিচ্ছে৷ ফিলিস্তিনের অধিকাংশ মানুষের পছন্দ হামাসকে৷ ফাতাহ যে কিছু করতে পারবে না এটি ফিলিস্তিনের নাগরিকরা বুঝে গেছেন৷ তাই ফিলিস্তিনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে হামাস৷ ফিলিস্তিনে তৃতীয় আরেকটি দল আছে যার নাম প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ৷ যদিও এটি হামাসের মিত্র। তবে এদের কোন রাজনৈতিক শাখা নেই৷ এরা হামাসের সাথেই যুদ্ধ করে৷ 

সব থেকে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ২০০৬ সালের সংঘর্ষের পরে ফিলিস্তিনে ফাতাহ এবং হামাসের এরপরেও অনেক সংঘর্ষ হয়েছিলো এবং মানুষ হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে৷ ফিলিস্তিনে এখন কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের দুই ব্লকের ছায়াযুদ্ধ চলছে। একটি সৌদি আরব অন্যটি ইরান৷ ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মধ্যে আন্তকোন্দল আছে ব্যাপক৷ তাই তারা আজ পর্যন্ত কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না ইসরায়েলের বিরুদ্ধে৷ আমরা বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো যতোই প্রতিবাদ করি, ফেসবুকে যতো যাই করি বিন্দুমাত্র লাভ হবে না ফিলিস্তিনিদের৷ তাদের নিজের দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে৷ প্রথমে তাদের এক হতে হবে৷ নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কমিয়ে সবাই একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে৷ না হলে ফেসবুকে কোটি কোটি হ্যাসটেগ সেভ প্যালেস্টাইন দিয়ে কোন লাভ নেই৷ ইসরায়েল তাদের অত্যাচার ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাবে৷ একবার ভাবুন তো ফাতাহ ওয়েস্ট ব্যাংক থেকে আর হামাস গাজা থেকে আক্রমণ চালালে ইসরায়েলীরা আরো বেশি আতঙ্কে থাকতো৷ আল আকসা মসজিদের আশে পাশেও কোন ইসরায়েলিকে পাওয়া যেত না৷ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতো আরো সহজে৷ ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনের একপক্ষকে পঙ্গু করে দিয়েছে৷ হামাসের একার পক্ষে ইসরায়েলের সাথে লড়া সম্ভব নয়৷ আন্তকোন্দল ও ক্ষমতার লোভ যে কি খারাপ জিনিস তা এই অবস্থা থেকে বুঝা যায়৷ দিন শেষে একটাই কথা বলবো আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুক৷ আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করুক🖤

#তুরস্ক টু #মদিনা রেলপথ যেভাবে ধ্বংস করেছিল! এক বেদনাদায়ক ইতিহাস... 💔

#তুরস্ক টু #মদিনা রেলপথ যেভাবে ধ্বংস করেছিল! 
এক বেদনাদায়ক ইতিহাস... 💔

যারা মদিনা যাবেন এই তুর্কি রেল ষ্টেশন দেখে আসবেন।মসজিদে নববী সাঃ থেকে হেটেই যাওয়া যায়।যদিও এখন মিউজিয়াম হিসাবে ব্যবহার হয়।অনেক দুর্লভ জিনিস আছে।

প্রথম রেলগাড়ি। যেটা দামেস্ক থেকে মদীনা মুনাওয়ারাহ-র উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।

তুরস্কের সুলতানগন হজ যাত্রীদের সুবিধার্থে পবিত্র দুই নগরীর দেশ হেজাজকে সিরিয়ার সাথে রেল লাইনে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেন। ১৯০০ সালে তুরস্কের সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ “হেজাজ রেলওয়ে” নামের এই মহা প্রকল্পটি শুরুর নির্দেশ দেন।

তৎকালীন সময়ে এটা ছিল অর্থনৈতিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এর বাজেট ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার।

কাজ শুরু হলো হেজাজ রেলওয়ে প্রতিষ্ঠার। দামেস্ক থেকে প্যালেষ্টাইন, জর্ডান হয়ে তাবুক দিয়ে হেজাজে প্রবেশ করে মদীনা হয়ে মক্কা পর্যন্ত সংযুক্ত হবে। ইস্তাম্বুলের হায়দ্রাপাশা ষ্টেশন থেকে দামেস্ক পুর্বেই রেলপথ ছিল। তুর্কি সুলতানগন প্যালেষ্টাইনে হাইফা বন্দর প্রতিষ্ঠা করেন উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। হাইফা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সরবরাহ বন্দর হিসাবে। হাইফাকে সযুক্ত করা হল হেজাজ রেলওয়ের সাথে দেরা জংশনে।

দামেস্ক থেকে মদিনার রেল লাইনের দৈর্ঘ ১৩২০কি.মি.। বাকী শাখা লাইন সহ হেজাজ রেলওয়ের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০০ কি.মি.। কাজ শুরু হয় ১৯০০ সালে। এই প্রকল্পে ৫০০০ তুর্কি সৈনিক নিয়োজিত ছিল। জার্মান সহযোগিতায়, তুর্কি প্রকৌশলীরা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় কাজটি সম্পন্ন করেন।

কাজ শেষ হয় ১৯০৮ সালে। ১৯০৮ সালে মদীনা ষ্টেশনের উদ্বোধনের পর হেজাজের সাথে আরব জগতের বাকী অংশের সাথে দ্রুত যোগাযোগের এক নূতন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। মদীনা হয়ে উঠে বহির্বিশ্বের সাথে হেজাজের যোগাযোগের অন্যতম প্রবেশ দ্বার। পুর্বের দুই মাসের বদলে মাত্র চার দিনে দামেস্ক থেকে মদীনা পৌঁছতে পারতেন হজ্জ যাত্রীরা। তাছাড়া ভ্রমন অনেক আরামদায়ক হলো। উটের পৃষ্ঠে ভ্রমণ ব্যয় ছিল চল্লিশ পাউন্ড। আর ট্রেনে খরচ হতো মাত্র চার পাউন্ড। কিন্তু প্রথম প্রথম নানা বিড়ম্বনার সন্মুখীন হতে হয় রেলওয়েকে এবং যাত্রীদের। বেদুইনরা রেলে আক্রমন করতো। প্রথম বছর ত্রিশ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয় এবং পরবর্তী ছয় বছরের মাথায় বেড়ে দাঁড়ায় বছরে তিন লক্ষ। 

মক্কায় তুর্কি সুলতানের ও খেলাফতের প্রতিনিধি ছিলেন মক্কার শরীফ হোসাইন বিন আলী। ১৯১৪ সালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম মহাযুদ্ধে তুরস্ক অক্ষশক্তির পক্ষে ছিল। স্বভাবতই ইংরেজরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে তুর্কী সাম্রাজ্য ফাটল ধরানোর। সফলও হয়। ইংরেজদের প্রলোভিত প্রস্তাবে সাড়া দেন শরীফ হোসাইন বিন আলী। তুর্কীদের পরাজিত করতে পারলে তিনি হবেন হেজাজের রাজা এবং তাঁর এক ছেলে হবে সিরীয়া ও ইরাকের রাজা, আর এক ছেলে হবে ট্রান্স জর্ডানের রাজা।

অনারব তুর্কি শাসন ও খেলাফত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, মিত্রবাহিনী বা ইংরেজ শক্তির আনুকুল্যে শুরু হয় বিখ্যাত আরব বিদ্রোহ। শরীফ হোসাইন বিন আলী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। বিশাল অটোমান তুর্কি সাম্রাজ্য শাসন করা সরাসরি সম্রাট বা খলিফার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। সম্রাটের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অঞ্চল শাসন করতেন। তুর্কি শাসনে অসন্তুষ্ট ছিল আরবরা। এছাড়াও ভিন্ন ভাষা ও জাতিয়তা বিভাজনের অন্যতম কারন হয়ে দাঁড়ায়। ১৯১৬ সালের ১০ই জুন শরীফ হোসাইন বিন আলী বিদ্রোহ করেন তুর্কী অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে। জুলাই মাসে শরীফ বিন আলী মক্কার পূর্ন নিয়ন্ত্রন নেন এবং নিজেকে হেজাজের রাজা ঘোষণা করেন।

এব মধ্যে হাজার হাজার আরব বেদুইন তার বাহিনীতে যোগদান করে। ইংরেজরা অস্ত্র সবরাহ করে। তাছাড়া তুর্কি বাহিনীর আরব যোদ্ধারা অনেকেই পক্ষ ত্যাগ করে শরীফের সাথে যোগ দেন। দ্রুতই আরব যোদ্ধার সংখ্যা বাড়তে থাকে।

মক্কায় নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার পর হোসাইন বিন আলী মদীনা অবরোধ করেন। বিশাল বাহিনী নিয়ে শরীফের তিন ছেলে অক্টোবর ১৯১৬ সালে তিন দিক থেকে মদীনা আক্রমন করেন। ইতোমধ্যেই আব্দুল্লাহকে জর্ডান, ফয়সলকে ইরাকের রাজা এবং আলীকে হেজাজের যুবরাজ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আরবদের সৈন্য সংখ্যা নিয়ে কিছু তথ্য বিভ্রান্তি আছে। মদীনা আক্রমনে সর্বমোট আশি হাজার সৈন্য সন্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়। এছাড়া টি.ই. লরেন্স (বিখ্যাত লরেন্স অব এরাবিয়া) ও এডমন্ড এলেনবির নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ছিল পশ্চাদভাগে। কিন্তু মদিনাস্থিত স্বল্প সংখ্যক তুর্কি সেনাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে বিপুল ক্ষয় ক্ষতি নিয়ে আরব বাহিনী পিছু হটে। আরবরা মদীনার তিন দিক থেকে আক্রমন করেও সুবিধা করতে না পেরে মদীনা অবরোধ করেন। তখন মদীনায় আনুমানিক এগারো হাজার তুর্কি সৈনিক ছিল।

এখানে এক তুর্কি বীরের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি হলেন মদীনা প্রতিরক্ষার দ্বায়িত্বে থাকা তুর্কি বাহিনীর জেনারেল ফারদিন পাশা। জেনারেল ফারদিনের বীরত্ব সাহস ও বুদ্ধিমত্বার কাছে আরব বা মিত্র বাহিনীর কোন অভিযানই ফলপ্রসু হয়নি। ফারদিন পাশা মরু সিংহ নামে খ্যাত ছিলেন।

মদীনা অবরোধ বজায় রেখে আরব ও মিত্রবাহিনী হেজাজের অন্যান্য স্থানে তুর্কিদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলো। তারা তুর্কি সরবরাহ লাইন কেটে দিতে হেজাজ রেলওয়ের উপর সর্বাত্মক আক্রমন চালায়। আরবরা চেষ্টা করে রেল লাইন ধ্বংস করতে আর তুর্কিরা মরিয়া ছিল হেজাজ রেলওয়ে রক্ষা করতে। এই রেল লাইনের অস্তিত্বের উপর তাদের যুদ্ধের ভাগ্য অনেক খানিই নির্ভর করছিল। হেজাজে তুর্কী বাহিনীর রসদ সরবরাহ পথ বন্ধ এবং সাম্রাজ্যের অন্যান্য অংশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য রেল লাইন উৎপাটন করে ফেলা হয় এবং আগুন ধরিয়ে ধংস করা হয়। এর মাঝেও জেনারেল ফারদিন রেল লাইন চালু রাখার চেষ্টা করে যান। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা প্যালেষ্টাইন ও ট্রান্স জর্ডান দখল করে। এবং হেজাজ রেলওয়ে বন্ধ করে দেয়। তুর্কি বাহিনী রসদ ঘাটতির সন্মুখীন হয়। আরব বিদ্রোহের কারনে রেল লাইনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

কিন্তু মদীনা থেকে তুর্কিদের সরানো যায়নি বা আত্মসমর্পন করানো যায়নি। জেনারেল ফারদিন আত্মসমর্পন না করার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি এও প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে ত্যাগ করে যাবেন না। তিনি মসজিদে নববীতে তার সৈনিক ও অফিসারদের সন্মুখে এ ঘোষণা দেন শেষ গুলি থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ দুই বৎসর আক্রমণ ও প্রতিরোধ চলতে থাকে।

অবশেষে দুই বৎসর পর ১৯১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। ৩০শে অক্টোবর ১৯১৮ সালে তুর্কি সুলতান আত্মসমর্পন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ধারনা করা হয় এবার ফারদিন পাশা আত্মসমর্পন করবেন। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পন করলেন না। ইস্তাম্বুল থেকে তাঁর কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন যুদ্ধ সমাপ্তির ও আত্মসমর্পনের। কিন্তু ফারদিন প্রতিরোধ বজায় রাখেন আরো বাহাত্তর দিন। অবশেষে ৯ই জানুয়ারী কিছু তুর্কি অফিসার তাঁকে বন্দী করে আব্দুল্লাহর কাছে সমর্পন করেন। এভাবেই সমাপ্তি ঘটে এক বীরের প্রতিরোধ।

৫১৯ জন অফিসার ও ৭৫৪৫ জন তুর্কি সৈনিককে বন্দি করে মিসর পাঠানো হয়। জেনারেল ফারদিনকে পাঠানো হয় মাল্টায়। চার বছর বন্দি থাকার পর ফারদিন তুরস্কে প্রত্যাবর্তন করেন এবং কামাল আতাতুর্কের বাহিনীতে যোগ দেন।
১৯১৮ প্রথম মহাযুদ্ধের পর তুর্কি সাম্রাজ্যের আরব ভাষাভাষী অঞ্চলসমুহ সিরিয়া, ট্রান্স জর্ডান, ইরাক হেজাজ, নেজদ, লেবানন প্যালেষ্টাইন ইত্যাদি নামে স্বাধীন এবং ইংরেজ আশ্রিত রাজ্য ভাগ হয়ে যায়। ফলে আন্তর্দেশীয় রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

শতবর্ষ পূর্বে তৎকালীন সময়ের সর্বাধুনিক যোগাযোগ সুবিধা মদীনাবাসী এবং ভ্রমণকারীরা মাত্র আট বছর ভোগ করেছিলেন।

Sunday, 23 May 2021

একটি আত্মবিধ্বংসী জাতির ধ্বংসের উপাখ্যা

😭একটি আত্মবিধ্বংসী জাতির ধ্বংসের উপাখ্যানঃ

> দুধে: ফরমালিন

> গরুর দুধ বৃদ্ধিতে: পিটুইটারী গ্ল্যান্ড ইনজেকশন 

> মাছে: ফরমালিন 

> শাকসবজি টাটকা রাখতে: কপার সালফেট 

> আম, লিচু জাম পাকাতে: কারবাইড 

> আম, লিচু, জাম সংরক্ষণে: ফরমালিন 

> ফল গাছে থাকতেই: হরমোন ও কীটনাশক 

> তরমুজে সিরিন্জ দিয়ে দেয়: পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট 

> কলা পাকানো হয়: ক্যালসিয়াম কারবাইড 

> কফি পাউডারে: তেঁতুলের বিচির গুড়া 

> মসলায়: ইটের গুড়া 

> হলুদে: লেড ক্রোমেট/ লেড আয়োডাইড 

> মুড়িকে ধবধবে সাদা ও বড় করতে: হাইড্রোজ ও ইউরিয়া 

>  দীর্ঘক্ষন মচমচে রাখার জন্য জিলিপি, চানাচুরে: পোড়া মবিল 

> আকর্ষণীয় করতে আইসক্রিম, বিস্কুট, সেমাই, নুডলস ও মিষ্টিতে: কাপড় ও চামড়ায় ব্যবহৃত রং 

> ফলের রস তৈরী: ক্যামিকেলস দিয়ে 

> বিদেশী মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য/ঔষধ/ক্যামিকেলস: নতুন মেয়াদের স্টিকার লাগিয়ে 

> চাল চকচক করতে: ইউরিয়া 

> পিয়াজু, জিলাপিতে: এমোনিয়া। 

(সূত্র: ইত্তেফাক, পৃষ্ঠা: 2, তারিখ: 26/05/2018)

আরও আছে...
🚩 পানি-২০ লিটার (২ টাকা গ্লাস) অধিকাংশই অটোমেশিনে নয় হাতে ঢালা হয়। পারক্সাইড দিয়ে নয় নাম মাত্র পানিতে ধুয়া হয়।

🚩 ফলে হরমোন প্রয়োগ করা হয়।

🚩 সবুজ ফল ও শাকশব্জিতে কাপড়ের সবুজ রঙ ব্যাবহার হয়, সসেও তাই।

🚩খামারের মুরগিতে বিশাক্ত ক্রোমিয়াম, লেড আর এন্টিবায়োটিক তো আছেই, চাষের মাছেও তাই।

🚩 জুস, লাচ্ছি তো উচ্চ মাত্রার প্রিজারভেটিভ।

🚩রুহ আফজাহ আর হরলিক্স তো প্রমানে অপারগ যে এতে আসলে কল্যাণকর কিছু আছে।

🚩 মসল্লায় আলাদা রঙ (মেটালিক অক্সাইড)।

🚩সরিষার তেলে ঝাঁজালো ক্যামিকেল।

🚩সয়াবিনে পামওয়েল।

🚩শুটকিতে কিটনাশক।

🚩কসমেটিক্সে ক্যান্সারের উপাদান লেড, মারকারি ও ডাই।

Saturday, 22 May 2021

মেট্রোরেলের কিছু তথ্য

মেট্রোরেলের কিছু তথ্য:

১. বাংলাদেশের ট্রেনের ছাদে ওঠার স্বংস্কৃতিতে যারা বিশ্বাস করেন , তারা সাবধান ...11 KV হাই ভোল্টেজ এ মুরগী পোড়া হয়ে যাবেন । 

২. বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই । এটি সম্পূর্ন নতুন একটি প্রতিষ্ঠান । যার প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যন্ত সবাই নতুন ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত । 

৩. উদ্বোধনের পর থেকে ৫ বছর জাপানিজ ও দেশীয় প্রকৌশলীদের যৌথ তত্বাবধানে থাকবে । 

৪. Dedicated power supply থাকবে। যেটা সাধারণত গন ভবন বা বঙ্গভবন বা সেনা সদর এ থাকে । গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা বিধায় , এর Backup power supply এর জন নিজস্ব power supply রয়েছে । 

৫. স্বয়ংক্রিয় টিকেটিং ( Card System)ব্যবস্হা , বিধায় টাকা নাই ট্রেনে ফাও ওঠাও নাই । ঢুকতেই পারবেন না , কারন টাকা না কাটলে Entry দরজা খুলবে না । 

৬. এটি জাপানের কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এ তৈরী। 

৭. ভাংচুর , সিট কাটা থেকে শিক্ষা নিয়ে , ট্রেনের সিট গুলো শক্ত প্লাস্টিকের তৈরী , যেগুলো হেভি টেম্পারড প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী ।

৮. ট্রেনের সকল গ্লাস বুলেট প্রুফ ( JR standard ) | তাই ইট মারেন , হাতুড়ি পেটান 😉 সমস্যা নাই , ভাঙ্গবে না । 

৯. কোন প্রকার হকার এলাউড না । কারন নির্দিষ্ট সময় এর থেকে বেশী থাকলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভাড়া বেশী গুনতে হবে । 
১০. প্রতি বগীতে ছাদের সাথে ক্যামেরা আছে .. অতএব সাধু সাবধান .. প্রতি মুহুর্ত মনিটর করা হবে ... 

Engr Shahjahan Kabir 
Founder 
Civil engineering skill development program.

আপনার বোন কিংবা মেয়ে, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ভাই কিংবা ছেলে, কাদের সাথে মিশছে! নিজেকে ও এ বিষয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক রাখতে হবে। কারণ শয়তান সব সময় মানুষের পিছনে লেগে আছে তাকে বিপথগামী করার জন্যে। সঙ্গটাই এই খানে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন।

#শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, "একজন ছেলে কখনো একজন মেয়ের বন্ধু হতে পারে না, কারণ এখানে আবেগ আছে, দৈহিক আকাঙ্খা আছে।" একই কথা বলেছেন আইরিশ কবি Oscar Wilde. "নারী এবং পুরুষের মাঝে কেবলই বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অসম্ভব। যা থাকতে পারে তা হলো আকাঙ্খা, দুর্বলতা, ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা।" বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে ঢোকা একটা ভন্ডামী! শুধুই সুযোগের অপেক্ষা। সবশেষ পরিনতি পরকিয়া!

হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, "ছেলে আর মেয়ে বন্ধু হতে পারে কিন্ত তারা অবশ্যই প্রেমে পড়বে। হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর না হয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তারা পড়বেই। শুধুই সুযোগের অপেক্ষা।"

সত্যি বলতে, ছেলে ও মেয়েতে শুধুমাত্র বন্ধুত্ব অসম্ভব ও প্রকৃতি বিরুদ্ধ। কেননা শুধুমাত্র বন্ধুত্ব হলে প্রকৃতি নিজের অস্তিত্ব হারাবে। চুম্বক আর লোহা কখনো পাশাপাশি থাকতে পারে না... আকৃষ্ট করবেই। যদি কেউ তা এড়িয়ে যায় তবে সে ভণ্ডামি করছে নয়তো ধোকা দিচ্ছে। আগুনের পাশে মোম গলবেই। ছেলে ও মেয়ে বন্ধুত্ব হতে পারে, কিন্তু একসময় প্রেমে বা অবৈধ সম্পর্কে রুপ নিবেই। শুধুই সুযোগের অপেক্ষা। আর এটাই স্বাভাবিক।

তবে তাদের এই মন্তব্য গুলোকে জোরালো ভাবে সমর্থন দিচ্ছে Flirtationship যার অর্থ হচ্ছে ছিনালি করা। কড়া ভাষায় বলতে গেলে নোংরামি করা। 

তাই অভিভাবক সহ সবাইকে এ ব্যাপারে এখনি বিশেষ ভাবে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। নয়তো আমরা ক্রমান্বয়ে ওই সাংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হব, যখন একটা ছেলে কিংবা মেয়ে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না, তার বাবা-মা কে!
তাই লক্ষ্য রাখুন, আপনার বোন কিংবা মেয়ে, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ভাই কিংবা ছেলে, কাদের সাথে মিশছে! নিজেকে ও এ বিষয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক রাখতে হবে। কারণ শয়তান সব সময় মানুষের পিছনে লেগে আছে তাকে বিপথগামী করার জন্যে। সঙ্গটাই এই খানে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন।
(সংগৃহীত)

পাবলিক_বিশ্ববিদ্যালয়ে_কেন_পড়বে

#পাবলিক_বিশ্ববিদ্যালয়ে_কেন_পড়বে???

Public University এমন একটা platform যেখান থেকে তুমি তোমার জীবনটাকে নিজের মত গুছিয়ে নিতে পারবে…!!!!!
Bye The Way……… মূল আলোচনায় আসি …😊

১ । তুমি ভাবতেও পারবেনা varsity life কেমন মজা । লেখাপড়া না করে শুধু চিল হয়, এমনটিও নয় । লেখাপড়ার ভেতরে বোরিং বলে কোনো জিনিস নেই এইটা এখানে আসলে বুঝতে পারবে। পড়া লেখা যে মজা করে পড়া যায় তুমি এখানে এসেই বুঝতে পারবে ।🤗
২ । এখানে এসে তুমি পাবে একটা বড় প্লাটফর্ম । যেখান থেকে তুমি পৌছাতে পারবে maximum পর্যাযয়ে । আর পাবে স্বাধীন জীবন ।
৩ । মনে করো তোমার সামনে অনেক গুলো খাবার রাখা আছে । এইখান থেকে তুমি যেইটা ইচ্ছে তুলে খেতে পারবে …
ঠিক এই রকম কিছু উধাহরন দেই …যেমন–
{এখানে আছে…..……….

i) বিসিএস (BCS) ফোরাম। (যাদের টার্গেট BCS ক্যাডার হওয়ার তাদের জন্য এই সংগঠন । তারা এইখান থেকে গাইডলাইন পাবে)🤭

ii) দেশসেরা লাইব্রেরী। (এই লাইব্রেরী তে একবার ঢুকলে সারাদিন পড়ে যেতেই ইচ্ছে করবে)

iii) Science Club. (বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের জন্য)

iv) United Nation Club (জাতিসংঘ সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করার ইচ্ছে থাকলে এইখান থেকে help পাবে)🤩

v) ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, সুইমিং, অ্যাথলেটিক, ক্যারামবোর্ড, টেবিল-টেনিস, টেনিস, দাবা সহ সকল ধরনের খেলার সুযোগ। এখানে এদের আলাদা আলাদা ক্লাব আছে। তুমি ভালো খেলা দেখাতে পারলে National পর্যায় খেলোয়াড় হয়ে যেতে পারো। এখানে সব কিছু ফ্রি। তুমি খেলতে আগ্রহী কিনা তোমার কাছে বার বার জানতে চাওয়া হবে । মাঝে মাঝে টিম করে Departmental ও Non-departmental খেলা হয়।

vi) আছে উন্নত মানের ব্যায়ামাগার। (Gymnasium) 🤷‍♂️

vii) আছে সাহিত্যক ক্লাব।

viii) আছে Debate Club (এখান থেকে তুমি তোমার স্বপ্ন পুরন করতে পারবে)🙂

ix) Career Club (ক্যারিয়ার গঠনে তোমাকে Help করবে) তোমার বিভিন্ন Skill Develop করতে সাহাজ্য করবে। যেমন তুমি যদি Public Speaking, Communication Skill, Leadership skill etc অনেকে এইগুলো প্রথম শুনলে,ভাবতে পারো এইটা আবার কেমন স্কিল??…খাই নাকি মাথায় দেই??? ইত্যাদি ইত্যাদি … আমি তোমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি____ *তুমি কি ২০০০/৩০০০ মানুষের সামনে স্টেজে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বক্তব্য দিতে পারবে?? এই বক্তব্য দেওয়ার জন্যই দরকার Public Speaking Skills . *সব মানুষই চাই Power . অর্থাৎ BOSS হতে চাই। কেউ চাই না যে,কারও আন্ডারে কাজ না করতে। সকলের লিডার হতে চাই। সেটা হোক যেকোনো চাকরি,ব্যাবসা বা অন্য কিছু। কেউ ইচ্ছে করলেই লিডার হতে পারবেনা, এমনি এমনি কেউ দিবেও না বস হতে। তাই লাগবে দক্ষতা। আর এই দক্ষতাই হলো Leadership Skills . * আর Communication Skills এইবার তুমি নিজেই বুঝে নিও । )

x) Business Club (তোমার স্বপ্ন যদি থাকে ব্যাবসিক হওয়ার,তাহলে এইখান থেকে পাবে গাইডলাইন)😄

xi) Higher Study Club. (তোমার ইচ্ছে যদি থাকে আমেরিকা,কানাডা,ইংল্যান্ড,অস্ট্রলিয়া,জার্মানি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়া জন্য গাইডলাইন এবং স্কলারশিপ এর প্রসেস গুলো এডভাইজ করবে । বিভিন্ন রিসোর্স গুলো তোমার সামনে হাজির করবে এবং মোটিভেট করবে ।

xii) Dance Club (তোমার স্বপ্ন যদি থাকে নাচের Hobby টা এবং Passion টা ধরে রাখার তাহলে এইখানে তুমি Help পাবা)🤑

xiii) Singing Club. (নাচের মত গানের ক্লাব)

xiv) বিভিন্ন পেশায় সরকারি-বেসরকরারী উচ্চপদে চাকরি করতে পারবে। থাকবে রাজনীতি করার সুযোগ। 

xv) English Languege Club (এইখানে তোমার ইংরেজির দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে )✌️

xvi) সেচ্ছাসেবী সংগঠন (তোমার যদি ইচ্ছেড়াবে,অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে,পথশিশু দের নিয়ে কাজ করবে,রক্তদান কর্মসূচী তে যোগ দেবে। তাহলে এইটা তোমার জন্য। এক কথায় তোমার ক্যারিয়ারের জন্য সব পাবে এখানে।😇
৪ । এইখান থেকে তুমি সেরা খেলোয়াড়, ডান্সার, গায়ক, অভিনেতা, সাহিত্যক, আর্টিস্ট, ব্যাবসায়িক, উদ্যগতা ইত্যাদির যেকোনো একটি হয়ে যেতে পারো যেকোনো SUBJECT এই পড়োনা কেনো …
৫ । এইখানে মাঝে মাঝেই Concert হয় আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো লেগেই থাকে। আর এইখানে যেইসব Concert হয়, তুমি ভাবতেও পারবেনা। নামকরা গায়ক, নায়করা এখানে অতিথি থাকে।💥
৬ । এখানে হয় সেমিনার। সেমিনারে আমন্ত্রিত থাকে নামকরা ব্যাক্তিত্ত্ব। যেমন…তোমরা যদি BCS ফোরামে যুক্ত থাকো তাহলে সুসান্ত পাল এর সেমিনার পাবে। এর থেকেও নামকরা ব্যক্তিত্বরা এখানে আসে। এরা মোটিভেট করে,গাইডলাইন দেই। এইরকম সব ক্লাব তাদের প্রোফেশন অনুযায়ী নামকরা ব্যাক্তিদের হাজির করে। 👌
৭ । Classroom গুলো পাবা AC room. Wifi সুবিধা। আলাদা চেয়ার-টেবিল। গ্যালারি সিস্টেম ও থাকবে। তবে কিছু কিছু Department এ গ্যালারি থাকেনা। 😎
৮ । উন্নত মানের ল্যাব ব্যাবস্থা। যেখানে ঢুকলে আর বের হতে ইচ্ছে করবেনা।🤓
৯ । পাবা উচ্চতর গবেষণা করার অপার সুযোগ।
১০ । তুমি তোমার ক্ষুদ্র প্রতিভা গুলোও এখানে তুলে ধরতে পারবা।
এখানে সব সময় সাংবাদিক Ready থাকেই। তুমি কিছু একটা করেই ভাইরাল হতে পারবে।🤟
১১ । এখানে পাবা অনেক পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ। যেইটা তুমি কোথাও পাবেনা। এখানে যারা আছে সবাই Multitalented। এমনকি তারাই হবে তোমার সেরা বন্ধু। 😌

এখানে আছে ৬৪ জেলার মানুষ । আর DU, KU, RU, BUET, BAU, JU, CU, JUST, SUST সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ দেখা পাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের। যারা তাদের কালচারের সাথে তাল মিলিয়ে লেখাপড়া করছে।🤗
১২ । বিকেলে, রাতে বন্ধুবান্ধব দের সাথে চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতে পারবে।🥳
১৩ । লেখাপড়া করবে ফ্রি। সেমিস্টার বা এয়ারলি অল্প কিছু টাকা লাগবে, ফ্রি আবাসন ব্যাবস্থা, ফ্রি যাতায়াত ব্যাবস্থা, খাবার খরচ খুবই স্বল্প।
সব কিছুরই একটা কমিউনিটি থাকে। তেমনি মেধাবী শিক্ষার্থীর মিলনমেলা এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়!!!🖤 

#Collected

বাংলাদেশের ৯০% মহিলাদের স্বভাবগুলো এমনই। তুমি আমাকে এই দাওনী, সেই দাওনী। অমুকের স্বামী তার বউকে এটা দিছে, ওটা দিছে। তুমি কি দিছ আমাকে?

বাংলাদেশের ৯০% মহিলাদের স্বভাবগুলো এমনই। তুমি আমাকে এই দাওনী, সেই দাওনী। অমুকের স্বামী তার বউকে এটা দিছে, ওটা দিছে। তুমি কি দিছ আমাকে?

 অন্যের স্বামীর সাথে কেন নিজের স্বামীর সাথে তুলনা করতে যাও। অন্যের জামাই চুরি চামারি ডাকাতী ঘুষ সুদ খেয়ে যদি তাদের ইচ্ছা পূরণ করে। তুমিও চাও তোমার স্বামী এমন খারাপ জগণ্য কাজগুলো করে তোমার শখগুলো পূরণ করুক? তার যতটুকু সার্মথ্য আছে সেতো ততটুকু দিচ্ছে তোমাকে, দেয়ার চেষ্টাও করছে। সংসারে এত নাশুকরি হলে আর যাইহোক সুখি হওয়া যায়না বোন। সংসারে একে অপরকে সেক্রিফাইজ করতে হয়। প্রিয় মানুষটির খুশির জন্য নিজের ছোট বড় শখগুলো বিসর্জন দেয়ার ক্ষমতা থাকতে হয়। 

এমন একটা যুগ ছিল, যখন মহিলারা তাদের স্বামীকে বাসা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে বলতো "" আমি না খেয়ে মরে যেতে রাজি আছি, তবুও তোমার হারাম উপার্জন খেতে পারবনা। ক্ষণিকের দুনিয়ার তুচ্ছ সুখের আশায়, সারাজীবনের জন্য আখিরাত হারাতে রাজি নই""

 সুবাহআল্লাহ💞 কত সুন্দর চিন্তা এদের৷ আর যাইহোক এদের সংসারে ভালোবাসা আর মনের শান্তির অভাব ছিলনা🥰

কিন্তু এখন ঠিক তার উল্টো। যেখান থেকে পারো এনে দিতে হবে। নাহলে বিয়ে করছ কেন আমাকে বউ চালাতে না পারলে? কোথা থেকে কীভাবে এই অর্থগুলো বাসায় আসে তার খোজ নেয়না৷ আর ঠিক এ কারণেই দেশে অপরাধ বেড়েছে। ঘরের স্ত্রীদের চাপে স্বামীদের হুশই থাকেনা যে, এই উপার্জনের জন্য কড়াগন্ডায় হিসাব দিতে হবে। যে পাপের ভাগিদার আমার স্ত্রী সন্তান কেউ হবেনা😥

এর উপর তো ফালতু যখন তখম নেকামি আছেই। সুখে থাকলেও তাদের ফালতু নেকামি করতেই হবে। যেন পেটের ভাত হজম হয়না এগুলা না করলে!

এসব কারনেই ৯৯% বিবাহিত পুরুষ আজ জিন্দা লাশে পরিনত হয়েছে।

আল্লাহ হেদায়াত দিক। বুঝার তাওফিক দিক আমিন🤲

সংগৃহীত

Top 10 Sites for your career

Top 10 Sites for your career

1. Linkedin
2. Indeed
3. Naukri
4. Instahyre
5. Monster
6. Careercloud
7. Dice
8. CareerBuilder
9. Jibberjobber
10. Glassdoor

10 Tech Skills in demand

1. Machine Learning
2. Mobile Development
3. SEO/SEM Marketing
4. Data Visualization
5. Data Engineering
6. UI/UX Design
7. Cyber-security
8. Cloud Computing/AWS
9. Blockchain
10. IOT

10 Sites for Free Online Education

1. Coursera
2. edX
3. Khan Academy
4. Udemy
5. FreeCodeCamp
6. MIT OpenCourseWare
7. Stanford Online
8. Codecademy
9. ict iitr
10. NPTEL

10 Sites to learn Excel for free

1. Microsoft Excel Help Center
2. Excel Exposure
3. Chandoo
4. Excel Central
5. Contextures
6. Excel Hero b.
7. Mr. Excel
8. Improve Your Excel
9. Excel Easy
10. Excel Jet

10 Sites to review your resume for free

1. Zety Resume Builder
2. Resumonk
3. Resume dot com
4. VisualCV
5. Cvmaker
6. ResumUP
7. Resume Genius
8. Resumebuilder
9. Resume Baking
10. Enhancy

10 Sites for Interview Preparation

1. Ambitionbox
2. AceThelnterview
3. Geeksforgeeks
4. Leetcode
5. Gainlo
6. Careercup
7. Codercareer
8. InterviewUp
9. InterviewBest
10. Indiabix
-collected