Monday, 15 November 2021

Pi network email verification

https://mine.pi/email

উপরে লিংক টা কপি করে আইপি ব্রাওজারে গিয়ে পেষ্ট করেদিবেন। তার পরে ইমেইলের অপশন আসবে ওখানে আপনার ইমেইল টা বসিয়ে দিবেন তার পরে দেখবেন লুডিং হতে তাকবে ওখানে আর কিছু করার দরকার নেই। তার পরে আপনি সরাসরি আপনি যে ইমেইল টা দিছেন ওই ইমেইল বক্স এ চলে যাবেন ওখানে দেখবেন,আইপি নেটওয়র্ক থেকে একটা মেইল যাবে( here) লিখা তাকবে ওখানে ক্লিক করবেন। কাজ শেষে আপনি মেইন আইপি প্রফাইলে যাবেন দেখবেন ইমেইল বেরিফাই হয় গেছে। 
সবাই ইমেইল বেরিফাই করে ফেলেন।।।

Wednesday, 10 November 2021

Pi Network

💯★ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ★ 💯

 PI NETWORK গত ১০ বছরের Cryptocurrency  
এর ইতিহাস পালটে দিতে চলেছে । বর্তমানে চায়নায় শত শত দোকান, মল, কম্পানি PI NETWORK এর মাধ্যমে কেনা বেচার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনি যদি ফলো করেন PI NETWORK এর ব্যবহারকারি ২৫ মিলিয়ন যা অন্য কোন কয়েন বা মার্কেটের নাই। PI NETWORK এমন কিছু করতে চলেছে যা আপনার চিন্তাভাবনা বাহিরে। বড় বড় Trader রা বলছে যেহেতু PI NETWORK মার্কেটে জনপ্রিয় একটি কয়েন এটা বিটকয়েনের সাথে পাল্লা দিবে। আপনি চাইলে মাইনিং করে আপনার ভবিষ্যৎ পালটে দিতে পারেন। আপনি শুধু ২৪ ঘন্টা পর পর মাইনিং অন করবেন, এটা করতে ২ সেকেন্ড সময় লাগে। যারা কাজ না করবেন পরে পসতাবেন। 

# একাউন্ট খোলার বা রেজিস্ট্রেশন করার সহজ পদ্ধতি:

১) Play Store থেকে Pi Network apps টি Install করুন এবং open করুন।
২) মোবাইল নাম্বার দিয়ে সংযোগ করুন । (Click on Go Button)

৩) জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) অথবা স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী
 আপনার নাম টাইপ করতে হবে: 
a) First Name 
b) Last name

৪) Password লিখুন অবশ্যই ১ টা বড় হাতের (Abcd)১ টা ছোট হাতের এবং ১ টা নাম্বার ডিজিটসহ মিনিমাম ৮ টা দিতে হবে (২ বার দিবেন উপরে-নিচে), তারপর নিচে Submit করবেন।

৫) আপনার পছন্দ অনুযায়ী User Name টাইপ করুন।

৬) Invitation code এর বক্সে লিখুন: monir364836 

৭) কয়েকটি মেসেজ আসবে এগুলো next করে দিন। তারপর একটি সাদা গোল চিহ্ন আসবে এতে ক্লিক করুন মাইনিং শুরু হয়ে যাবে। Dissmiss এ ক্লিক করুন, কাজ শেষ করুন।

৮) এখন কাজ হলো প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা পর পর সাদা গোল চিহ্ন এবং Mining Button 👉⚡এ ক্লিক করে মাইনিং চালু রাখা।

Who Invited You: monir364836 

⭕ সবাই আইডি কার্ড অনুযায়ী নাম দিবেন না হলে KYC করতে পারবেন না। আর KYC না করতে পারলে টাকা তুলতে পারবেন না। আপনার আইডি কার্ড না থাকলে আপনার বাবা অথবা মার আইডি কার্ড দিয়ে একাউন্ট খুলবেন

Monday, 8 November 2021

Pi network

Pi network

Invitation code: Monir364836 


এই সুযোগ কিছুদিনের জন্য, জলদি একাউন্ট খুলুন

এই কয়েনের দাম কিছু দিনের মধ্যে কয়েক লাখ টাকা হয়ে যাব

আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, বেশীর ভাগই ডিজিটাল মুদ্রা (ক্রিপ্টো কারেন্সী) সম্পর্কে কম-বেশী ধারণা রাখি বা অন্ততপক্ষে নাম শুনেছি। যেমন বিটকয়েন, ইথিরিয়াম, লাইটকয়েন ইত্যাদি। 

বহুল আলোচিত বিটকয়েনের মূল্য কিছুদিন আগে ৬৩,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় অথচ ২০০৭/২০০৮ সালে এই বিটকয়েন সম্পূর্ণরূপে ফ্রী মাইনিং করা যেত। সময়ের ব্যবধানে এর মূল্য দাড়িয়েছে আকাশছোয়া। Pi coin বিটকয়েনের মত. Pi network এর মাধ্যমে পাই কয়েন ইনকাম করা যায়।

ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে আপনার আগ্রহ থাকলে, কোনো নগদ অর্থ ব্যয় না করে একটি কোম্পানির (Pi Network) দেয়া কয়েন প্রতিদিন ২০/৩০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে মোবাইলের একটি Apps এর মাধ্যমে মাইনিং/জমা করে রাখতে পারেন, যা হয়তো আগামী বছরগুলোতে আপনাকে আমাকে ভালো একটা অর্থ দিতে পারে। 

"Pi Network" হচ্ছে সাড়া জাগানো একটা ডিজিটাল কারেন্সি ও মোবাইল মাইনিং অ্যাপ। এটি ২০২১ সাল পর্যন্ত ফ্রী মাইনিং করা যাবে, তারপর Crypto Market এ লিস্টেড হয়ে গেলে ফ্রী মাইনিং এর সুযোগ আর নাও থাকতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীতে ১ কোটি আশি লাখের মতো লোক Pi Coin মাইনিং এ জড়িত আছে। 

Pi Network (π) এ একাউন্ট খোলার নিয়ম:
..
১) গুগল প্লে স্টোরে (Google Play) অথবা iPhone থেকে Apps Store এ গিয়ে Pi Network লিখে সার্চ দিলে খুব সহজেই খুজে পাবেন অ্যাপটা। বা https://minepi.com/abdurrabjupa ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিন। তারপর Registration সম্পূর্ণ করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন। 

Download link https://minepi.com/Monir364836

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.blockchainvault
..
২) Pi Network Apps টি ওপেন করুন ও ফোন নম্বর বা ফেসবুক একাউন্ট দিয়ে GO বাটন চাপুন।
..
৩) Password লিখুন (২ বার) 
..
৪) জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) অথবা স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী আপনার নাম টাইপ করতে হবে:- 
(a) First Name
(b) Last Name
..
৫) আপনার পছন্দ অনুযায়ী User Name টাইপ করুন। 
..
৬) Invitation Code বক্সে লিখুন: Monir364836 
..
৭) তারপর কয়েকটি মেসেজ আসবে, সেগুলিকে ক্লিক করে সামনে যাবেন। নতুন একটি পেইজ আসবে। উপরের বাম দিকে Arrow চেপে পেইজ থেকে বের হয়ে যাবেন। তারপর Dismiss বাটনে ক্লিক করে দিলে Registration সম্পূর্ণ হয়ে যাবে ও ২৪ ঘণ্টার জন্য Coin মাইনিং শুরু হয়ে যাবে। এখন আপনি অ্যাপটি বন্ধ করে দিতে পারেন। তবে কখনো Signout/LogOut করবেন না। 

নোট:-
নিয়মিত আয় চালু রাখতে- ২৪ঘন্টা পর একবার Apps এ ঢুকে মাইনিং টা চালু করে দিলেই হবে। গোল-সাদা চিহ্নের উপর ক্লিক করলে সেটা সবুজ হয়ে যাবে। Dissmiss লেখায় ক্লিক করে কাজ শেষ করুন। এরপর Apps বন্ধ করে দিলেও আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য মাইনিং চালু হয়ে যাবে।

Sunday, 26 September 2021

বিকাশের টাকা ভূলে অন্য করো কাছে গেলে করণীয় কি?

বিকাশের টাকা ভূলে অন্য করো কাছে গেলে করণীয় কি?😇

আমরা প্রথমে একটি মারাত্মক ভূল করি তা হলো সাথে সাথে ফোন করি যার ফলে ওনি টাকা তোলে ফেলেন বা ক্যাশ আউট করে ফেলে।এটা কখনই করা যাবে না।করলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

করণীয়ঃ
১/ প্রথমেই টাকা যাওয়ার পড় থানায় যোগাযোগ করে বিস্তারিত বলে জিডি করতে হবে।

২/জিডির কপি নিয়ে নিকটস্থ হেল্প সার্ভিস যোগাযোগ করলে ওই গ্রাহকের একাউন্ট টি বন্ধ করে দিবে বিকাশ।

৩/ তিন কর্ম দিবসে মধ্যে ওই গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করবে বিকাশ তারা প্রশ্ন করবে টাকা টা কি আপনার গ্রাহক যদি না বলে, টাকা টা আপনার একাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে।

৪/ ওনি যদি বলে টাকাটা আমার তাহলে ওনাকে বলা হবে উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে নিকটস্থ অফিসে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রমাণ সহ যোগাযোগ করলে ওনার একাউন্ট সচল করে দেওয়া হবে।আর ওনি যদি তা করতে ব্যার্থ হন তা হলে ৬০ কর্ম দিবস পযর্ন্ত বিকাশ অপেক্ষা করবে ওনি ব্যার্থ হলে তখন অটোমেটিক ভাবে আপনার একাউন্টে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।ওই পযন্ত ওনার একাউন্ট বন্ধ থাকবে।

সব মোবাইল ব্যাংকিং গুলো প্রায় সেইম প্রসেস ব্যবহার করে।

Friday, 24 September 2021

Microworkers Admission Test Pass

Microworkers Admission Test Questions & Answers
100 % Pass 

Read the following questions with the marked answers first then start the exam.

Its 3rd time pass screenshot question and answer 



3rd time microworkers Admission Test video link 
Video link :  https://youtu.be/upMgerNr2Sk

4th time microworkers Admission Test video link 
https://youtu.be/upMgerNr2Sk

5th time microworkers Admission Test video link 
https://youtu.be/J207KUK4sro




2nd time pass question answers 




2nd time pass screenshot share here, its a bonus for you. 


4th time microworkers Admission Test Questions and answers 


Microworkers Admission Test Pass Question and Answer 5th time



Saturday, 18 September 2021

How to stop disturbing promotional SMS

If you are one of those who hates the annoying promotional messages from telcos which they send from dawn to sometimes even after midnight, then there is good news for you. 

The Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC) has launched the 'Do Not Disturb' or 'DND' service, using which people can now stop the messages sent by telcos promoting their products and services.
Ironically, this service is not new but due to a lack of publicity and awareness, many people do not know about the DND service. So on Saturday, the commission started broadcasting the details of the service in the media. 

To stop the promotional messages, users can dial Grameenphone *121*1101#, Banglalink *121*8*6#, Robi and Airtel *7#.

RELATED TOPICS
Top News
BTRC / DND / service / SMS

Friday, 18 June 2021

ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবা।

ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবা। 
প্রায় ১০০০ বছর পূর্বে সৈয়দ শেখ আবদুল কাদির জিলানী (র) মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবাটি দিয়েছিলেন। 

তিনি মিম্বরে উঠে বললেন, "এক হাজার মসজিদ বানানোর চেয়ে একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির পেটে কিছু খাবার পৌঁছানো উত্তম। দামি কাপড়ের গিলাফ দিয়ে মসজিদুল কাবাকে ঢেকে ফেলার চেয়ে ক্ষুধার্তকে খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। সারারাত নামাজ ও সিজদায় দাঁড়িয়ে থাকার চেয়েও মহৎ কাজ এটি। খোলা তরবারী হাতে জিহাদ করার চেয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্তকে পেটপুরে খাওয়ানো। প্রচন্ড গরমের দেশে সারা বছর রোজা রাখার চেয়েও মহৎ কাজ এটি। রুটির আটা যখন ভুখা মানুষের মুখ গহ্বর থেকে পেটের দিকে নামতে থাকে তখন তার মাঝে একটি আধ্যাতিক নূর থাকে যার আলো সূর্যের আলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যিনি ক্ষুধার্তকে খাওয়ান তাঁর জন্যে সুসংবাদ রয়েছে।"

হিজরির পঞ্চম শতকে তাঁর লেখা "গুনইয়াতুত তালিবিন" গ্রন্থে তৎকালীন সময়কার ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য আল্লাহ তাঁর লেখনীতে অনেক জ্ঞানের কথা ঢেলেছেন। 

তিনি বলতেন, শুধু প্রতিমাপূজার নামই শিরক নয়, প্রবৃত্তির দাসত্ব করাও শিরকের শামিল। মুমিনের কাজ তিনটি - আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইচ্ছার সাথে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া। 

তিনি আরো বলতেন, প্রথমে ফরজ, পরে সুন্নত ও তারপরে নফল। ফরজ ছেড়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে মশগুল থাকা বোকামী। সুন্নত বাকি রেখে নফলে মনোযোগী হবারও কোনো মূল্য নেই। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলতেন, ফরজ ছেড়ে দিয়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে থাকা বাদশাহকে পরিত্যাগ করে গোলামের খিদমতে আত্মনিয়োগের শামিল। 

শায়খ আবদুল কাদের জিলানি (রহ)কে আমাদের দেশে "বড়পীর" নামে যে ধারণা আর মর্যাদা দেয়া হয় প্রকৃত শায়খের সাথে এর কোন মিল নেই। 
 
হিজরি পঞ্চম শতকে তৌহিদি দর্শন ও অনৈসলামিক দর্শন একাকার হয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে ইসলাম। তখন তিনি শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের নির্ভুল পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। শায়খ জিলানি বৈরাগ্য শিক্ষা দেননি। আবার তিনি দুনিয়াকে পরিমাণমতো উপভোগ করতেও নিষেধ করেননি। তবে দুনিয়াকে উপাসনা, দাসত্ব করা আর ভালোবাসতে নিষেধ করেছেন। 
বলা হয় তাঁর ফিলসফির মুলতত্ব ছিলো রাসুল (সা) এর একটি কথা, --"অবশ্যই পৃথিবীকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আর তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পরকালের জন্য।"

পার্সিয়ার কাস্পিয়ান সাগরের তীরে জিলান শহরের অধিবাসী হবার কারণে তাঁর নামের শেষে জিলানী যুক্ত হয়ে যায়। অনুরোধ থাকা স্বত্বেও তিনি জীবনে কখনো কোন বাদশাহ বা সুলতানের সামনে যাননি। 
হিজরি ৬৬২ সালে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর চার স্ত্রীর গর্ভে ২৭ পুত্র ও ২২ কন্যা জন্মগ্রহণ করেছিলো।

প্রতিবছর ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে যে দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয় সেটি এই মনীষীর মৃত্যুর দিন।

Thursday, 17 June 2021

টাকার চেয়ে মেধা পাচার বেশি হতাশা

টাকার চেয়ে মেধা পাচার বেশি হতাশার.........
আচ্ছা খবর দেখলাম মঙ্গল গ্রহের জন্য ড্রোন তৈরিতে বিশ্বের ২৬ টি দলের মধ্যে সেরা দশে রয়েছে বাংলাদেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ড্রোন। বুয়েট ও কুয়েটের তৈরি ড্রোন মঙ্গল গ্রহে চলতে সক্ষম। কত ক্যলকুলেশন করে তৈরি করতে হয়েছে হিসেব আছে?? 
আবার বাংলাদেশের তৈরি মঙ্গলযানও নাসায় সেরা হয়েছিল। সবাই তো মহাখুশি। আচ্ছা এতে লাভ কি হচ্ছে?? এই মেধাবী ছেলেগুলো যারা প্রজেক্ট এ অংশ নিলো তারা অনার্স শেষে কোথায় যায়??
 বিজ্ঞানের ছাত্র হচ্ছে পুলিশের এডমিন। যে ড্রোন বানাতো সে দিনরাত পড়াশোনা করবে কাস্টম অফিসার হওয়ার জন্য। আর যারা এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছেড়ে বিদেশে পারি জমাবে তারা জীবনের একটা পর্যায়ে Airbus, boeing, lockheed martin,nasa এর মতো বড় বড় এরোস্পেস কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পাবে। 
তাহলে এই যে প্রতিবছর বুয়েটে কুয়েটে আমাদের মতো সাধারণ টেক্স পেয়ারদের শত শত কোটি টাকা বাজেট দিয়ে এই ছেলেদের পড়ানো হচ্ছে এতে দেশের কি লাভ হচ্ছে?? তাঁরা দেশের জন্য কিছু উদ্ভাবন ও করছেনা বরং বিদেশে পারি জমাচ্ছে।
 কতদিন আগে জানতে পারলাম বিশ্বের সেরা যুদ্ধবিমানের জন্য যে শক্তিশালী পাতলা শংকর ধাতুর প্রয়োজন ছিল সেটার উদ্ভাবন করেছে একজন বাংলাদেশী। উনি তার সারা জীবনে চাকরি জীবনে হয়তো এক হাজার কোটি টাকাই বেতন পেয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই এফ-১৬ দিয়ে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। 
যাইহোক এই মেধাগুলোর জন্য কি দেশে কর্মসংস্থান করা যায়না?
বাংলাদেশে কি ড্রোনের চাহিদা নেই?? সামরিক বাহিনীতে তো অনেক চাহিদা। শত শত কোটি টাকার ড্রোন কেনা হয়। এখন যদি সরকার বলে ১০০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট। সেনাবাহিনীর জন্য এই এই মানের একটা ছোট আকৃতির নজরদারি ড্রোন লাগবে। যাদের ডিজাইন পাশ হবে তারা পাবে একশো কোটি। তারপর এরকম ২০০/৩০০ ড্রোন ক্রয় করা হবে। তখন বেসরকারি কোম্পানীগুলো পাগলের মতো এইসব ছাত্রদের চাকরি দিবে। হ্যা বেসরকারি কোম্পানীকে সুযোগ দিতে হবে। সরকারি কোম্পানি কি করতে পারে তা চিনিকল, বিআরটিসি এর মতো প্রতিষ্ঠান দেখলেই বুঝা যায়।
যাইহোক এইসব কোম্পানি গুলোকে ধাপে ধাপে বড় কাজের টেন্ডার দিতে হবে। এতে দেশের টাকা দেশে থাকবে। ছেলেগুলো বিদেশে পারি জমাবেনা। আর দেশ আত্মনির্ভর হবে। যে ছেলেগুলো মঙ্গলের মতো উঁচুনিচু পাথরের ভূমির জন্য রোবট তৈরি করে সেরা হতে পারে। তারা কি পারবেনা বোম্ব ডিসপোজাল রোবট বানাতে?? কিন্তু এগুলো আমাদের বিদেশ থেকে ক্রয় করতে হয়। 
যারা বোম্ব ডিসপোজাল রোবট বানাতে পারবে তারা কি পারবেনা জাতিসংঘ মিশনে ব্যবহারের জন্য আইইডি ডিসপোজাল রোবট বানাতে?? যদি ২০২০ সালে তারা ৫ কিমি রেঞ্জ এর রকেট বানাতে পারে তাহলে ২০৩০ সালে তারা ১০০ কিমি রেঞ্জের মিসাইল ও বানাতে পারবে। যারা আজকে ৫ কেজি পো লোডের ড্রোন বানাতে পারবে তারা ৫/১০ বছর পর ১০০ কেজি লোডের ড্রোন ও‌ বানাতে পারবে। তারা পারবে কামিকাজি ড্রোন বানাতে।
প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা কত খাতে ক্ষতি হয়। যদি এরকম গবেষণায় টাকা ব্যয় হয় তাহলে দেশের ছেলেগুলোর একটা চাকরিও হলো মেধাগুলোর সঠিক ব্যবহার হলো। বেসরকারি বড় ২/৪ টা কোম্পানি গুলোকে এরকম প্রজেক্ট দিয়ে সুযোগ দিয়ে ট্রাই করেই দেখুন তারাই বিদেশ থেকে কত প্রকৌশলী প্রযুক্তি এনে মারামারি শুরু করবে প্রজেক্ট জেতার জন্য। দিনশেষে লাভ কিন্তু আমাদেরই। 
*সংগৃহীত*

Wednesday, 16 June 2021

তারিক বিন জিয়াদ : ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম সেনাপতি

তারিক বিন জিয়াদ : ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম সেনাপতি

ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত দেশ স্পেন, যে দেশের বেশিরভাগ(৬৮%) মানুষ রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। মুসলিম প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ কজন জানে এ দেশটি একসময় মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল! এ দেশটিকে ঘিরে রয়েছে মুসলিমদের গৌরবের ইতিহাস! এ ইতিহাস দু’এক বছরের নয়, কয়েক শত বছরের ইতিহাস এটি। স্পেনে কয়েক’শ বছর ধরে কায়েম ছিল মুসলিম শাসন।

আর স্পেনে এ মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন তারিক বিন জিয়াদ নামের এক সেনাপতি। তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম বীর সেনাপতি। কিন্তু তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন বা কোন বংশোদ্ভূত ছিলেন- সেসব সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে প্রায় কিছুই জানা যায় না।
কোন কোন ইতিহাসবিদের মতে, তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন হামাদানের একজন পারস্য বংশোদ্ভূত লোক। আবার কেউ মনে করেন, তিনি কিন্দাহ গোত্রের একজন মুক্ত আরব অধিবাসী ছিলেন। অনেকের ধারণা, তিনি উত্তর আফ্রিকার বার্বার বংশোদ্ভূত লোক ছিলেন। তবে অধিকাংশ আরব ও স্পানিশ ইতিহাসবিদ এ বিষয়ে প্রায় একমত যে তারিক বিন জিয়াদ ইফ্রিকিয়ার( বর্তমান তিউনিশিয়া, পশ্চিম লিবিয়া ও পূর্ব আলজেরিয়া নিয়ে গঠিত ছিল রোমান সাম্রাজ্যের আফ্রিকা প্রদেশ। এ প্রদেশকে ইফ্রিকিয়া বলা হতো) আমির মুসা বিন নুসাইরের একজন দাস ছিলেন। পরে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন ও নিজের সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করেন। অবশ্য তারিকের বংশধররা পরে তার দাস হওয়ার বিষয়টা অস্বীকার করেছিল বলে জানা যায়।
৭১০-৭১১ সালে মরক্কোর তানজিয়ার জয় করলে মূসা বিন নুসাইর তারিক বিন জিয়াদকে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত করেন। তানজিয়ারের পাশেই অবস্থিত ছিল স্পানিশ শহর সিউটা। মুসা বিন নুসাইর চেয়েছিলেন সিউটা দখল করতে। কিন্তু তানজিয়ার জয় করলেও সিউটা মুসলিমদের কাছে সে সময় পর্যন্ত অজেয়ই থেকে যায়। সিউটা শহরটি সেসময় ভিসিগথ গোত্রের জুলিয়ান নামক একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল।
৭১০ সালের দিকে স্পেনের ক্ষমতায় আসেন হিসপানিয়ার(আইবেরিয়ান উপদ্বীপ) ভিসিগথিক শাসনকর্তা রডেরিক। রডেরিক ক্ষমতায় আসলে সিউটার শাসনকর্তা জুলিয়ান, প্রথানুযায়ী, তার কিশোরী কন্যাকে শিক্ষার্জনের জন্য ভিসিগথিক রাজার দরবারে পাঠান। কিন্তু সেটিই হয় জুলিয়ানের জীবনের সবথেকে বড় ভুলের একটি। রডেরিক জুলিয়ানের কন্যাকে ধর্ষণ করেন। সেই অত্যাচারের বিচার না পেয়ে জ্বলে ওঠেন জুলিয়ান। প্রতিশোধের নেশায় তিনি হাত মেলান মুসলিমদের সাথে। তিনি তার এলাকায় আমন্ত্রণ জানান তারিক বিন জিয়াদকে। মুসলিমদেরকে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালী গোপনে পার করে দেয়ার ব্যাপারে তিনি তারিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।
এর ফলে, জুলিয়ানের সহায়তায়, নতুন ধর্মান্তরিত মুসলিম ও নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে গঠিত তারিকের বাহিনী ৭১১ সালের ২৯ এপ্রিল স্পেনের সীমানায় একটি পাহাড়ের নিকটে অবতরণ করেন। যা বর্তমানে জিব্রাল্টার নামে পরিচিত। জিব্রাল্টার নামটি আসলে আরবি ‘জাবাল আত তারিক’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ’তারিকের পাহাড়’। অর্থাৎ তারিকের নামানুসারেই জিব্রাল্টারের নামকরণ করা হয়।

জিব্রাল্টারে পৌঁছেই তারিক বিন জিয়াদ তার এবং তার সৈন্যদের বহনকারী সব নৌযান পুড়িয়ে দেন। এটি দেখে তার একজন সৈন্য যখন হতবুদ্ধি হয়ে তার কাছে জানতে চান, কেন তিনি এমন করলেন? তারা এখন ফিরবে কেমন করে? তারিক তখন শান্তভাবে জবাব দিয়েছিলেন, ‘ফিরে যাবার জন্য তো আমরা আসিনি। হয় বিজয় হবে নতুবা মৃত্যু’। যুদ্ধে জয়লাভের ব্যাপারে এমনই বদ্ধপরিকর ছিলেন তারিক বিন জিয়াদ।

তারিকের সেনাবাহিনীতে মাত্র ৭০০০জন সৈন্য ছিল। তার সাথে মুসা বিন নুসাইর আরও ৫০০০সৈন্য পাঠিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। স্পেনের সম্রাট রডেরিক তারিকের এই স্বল্প সংখ্যক সৈন্যবাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য এক লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তবু তারিকের অসাধারণ নেতৃত্ব, তার সৈন্যবাহীনির অসীম সাহসীকতা ও বীরত্বের কাছে হার মানতে হয়েছিল রডেরিককে।

রডেরিকের বিশাল সৈন্যবাহীনিকে মোকাবিলা করতে হবে শুনে প্রথমে তো তারিকের সৈন্যরা ভয় পেয়ে যায়। তারা সংখ্যায় এত কম ছিল যে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের ছিল অসীম সাহসী আর প্রেরণাদায়ী এক নেতা, তারিক বিন জিয়াদ। জানা যায়, যুদ্ধের পূর্বে তার সৈন্যবাহীনিকে সামনে রেখে তারিক বিন জিয়াদ এক যুগান্তরী ভাষণ দিয়েছিলেন। তারিক বিন জিয়াদ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,

” হে আমার সৈন্যগণ, কোথায় পালাবে তোমরা? তোমাদের পেছনে সাগর, আর সামনে শত্রু। তোমাদের কাছে আছে কেবল দৃঢ়তা এবং সাহস। মনে রেখো, এদেশে তোমরা সেই এতিমদের চেয়েও দূর্ভাগা যাদের অর্থলোভী মালিকরা তাদের বিক্রি করে দেয়। তোমাদের সামনে শত্রু, যাদের সংখ্যা অগণিত। কিন্তু তোমাদের শুধু তলোয়ার ব্যতীত কিছুই নেই। তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে কেবলমাত্র যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবন ছিনিয়ে আনতে পারো। তোমাদের সামনে আছে শত্রুকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনার সুবর্ণ সুযোগ। যদি তোমরা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারো তবে জয় নিশ্চিত। ভেবোনা আমি তোমাদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যাব, আমিই সবার সামনে থাকব এবং আমার বাঁচার সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীণ।”

কাজ হয়েছিল তারিকের এই বক্তৃতায়। উদ্দীপিত হয়েছিল সৈন্যরা। তিনি তার সৈন্যবাহিনীকে সাথে নিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তা চা্ইলে কোন বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। রডেরিকের ১,০০,০০০ সৈন্যও তাই তারিকের মাত্র ১২০০০সৈন্যকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

যুদ্ধের সময় তারিক বিন জিয়াদ তার সৈ্ন্যদলকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কর্ডোভা, গ্রানাডা ও অন্যান্য অঞ্চল জয় করতে পাঠান। এসময় তিনি মূল সেনাদলের সাথে অবস্থান করেন। তারা টলেডো ও গুয়াদালজার জয় করে। ৭১১ সালের ১৯জুলাই হিস্পানিয়ার (স্পেন) গুয়াডালেট নামক স্থানে মুসলিমদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ভিসিগথিক রাজা রডেরিক পরাজিত ও নিহত হন। এর ফলে ভিসিগথ রাজ্যে তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিমরা চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভ করে।
স্পেনে মুসলিমদের এই বিশাল জয়ের খবর শুনে তড়িঘড়ি করে স্পেনে আসেন মুসা বিন নুসাইর। এরপর তারিক বিন জিয়াদ এবং মুসা বিন নুসাইর দুই বীর সেনাপতি মিলে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চল জয় করেন চরম সাহসিকতা আর বীরত্বের সাথে। এ বিজয়ের পর প্রায় সাড়ে সাতশ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। আর এ বিজয়গুলো এত কম সময়ের মধ্যে, আর এত সফলভাবে এসেছিল যে তারিক বিন জিয়াদের নাম মধ্যযুগের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে খুব মর্যাদার সাথে উচ্চারিত হয় আজও।

(C)

Thursday, 10 June 2021

আমি একজন বয়স্ক কুমারী মেয়ে — যে বিয়ের ট্রেন ফেল করেছে

বাবার গৃহে আমি ছিলাম খুবই আদুরে মেয়ে । আমার কোনো চাওয়াই অপূর্ণ থাকত না । পাঁচ ভাইয়ের একটি মাত্র বোন বলে আমার স্নেহ – ভালোবাসা ও আদর – যত্নেও কোনো ত্রুটি হতো না।

 সবাই আমার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখত । আমার সকল আবদার পরিবারের সকলে বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিত । আর আমার চেতনার পুরােটা জুড়েই ছিল পড়ালেখা । লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে আমি মোটেও রাজি হতাম না । আর এতে আমার সাফল্যও ছিল বেশ ঈর্ষণীয় । তাই সকলের কৌতূহলী দৃষ্টি আমাকে অনুক্ষণ ঘিরে রাখত এবং সবাই আমাকে একটু কাছে পেতে উদগ্রীব থাকত । আমার সময়গুলো বরাবরের মতো বেশ ভালোই কাটছিল । সময়ের পরিক্রমায় আমি মাধ্যমিক স্তরে উত্তীর্ণ হলাম ।

একদিন মায়ের দেওয়া একটি সংবাদে প্রথম বারের মতো কাঁপুনি ধরল আমার হৃদয়ে । তিনি বললেন , অমুক তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে । তখন আমি কিছুটা আশ্চর্য ও অহংকার – মাখা স্বরে বললাম , পরিবারের লোকেরা কি আমাকে নিয়ে তামাশা করছে !? এই যে প্রস্তাব আসা শুরু হলো — এর পর থেকে এত ঘন ঘন প্রস্তাব আসতে লাগল যে , আমার অন্য বান্ধবীদের সবার মিলেও বোধহয় এত প্রস্তাব আসত না । একবার তো এক বান্ধবীকে গোপনে বলেই ফেললাম , মনে হচ্ছে আমাদের শহরের সব যুবকই আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে , কেউ আর বাকি থাকবে না ।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করা পর্যন্ত প্রস্তাব আসার এই ধারা অব্যাহত থাকল । তবে এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এল । আমি সর্বদা একই প্রশ্ন করতাম , ছেলের যোগ্যতা কী ? তার মধ্যে কী কী গুণ আছে ? আমি তোমাদের কাছ থেকে কিছুই লুকাব না । বিভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তরুণেরা , বিচিত্র সব পেশার যুবকেরা এবং সম্রান্ত পরিবারের ছেলেরা আমার পরিবারের কাছে সম্বন্ধ পাঠাত । বরং আমি তাে এই পর্যন্ত বলব , একবার ‘আব্দুল্লাহ নামের অসাধারণ এক যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেয় , যে জ্ঞানে – গুণে এতটা সমৃদ্ধ ছিল যে , আর দশজন পুরুষ মিলেও তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না । তবুও আমি তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলাম । কারণ , আমি সুন্দরী , আমি মেধাবী — আমার একটা অবস্থান আছে । পড়ালেখার পাট চুকিয়ে যখন কর্মজীবনে পা রাখলাম , সম্বন্ধ আসর ধারা । আরও বেড়ে গেল। তবে এতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল । যারা প্রস্তাব নিয়ে আসছে তাদের বয়স খানিকটা বেশি — ত্রিশের আশেপাশে ! যদিও আমার অন্তরে বিপদঘণ্টা বেজেই চলছিল , কিন্তু আজকের আগে কখনােই তা আমি শুনতে পাইনি ।

 সময় তার গতিতে বয়ে চলছে । এরই মধ্যে এমন একটি প্রস্তাব এল , যা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয় । জানো , সেটা কী ? এমন এক লােক প্রস্তাব নিয়ে আসে , যে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে এবং তার একটি সন্তান আছে । এরূপ প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে বড় একটা ধাক্কা খেলাম । পরক্ষণেই বললাম , বেচারি ! আমার অবস্থা জানে না , আমি কে ? তার জন্য আমার এক ধরনের করুণা হলাে ।

দিন যায় , সপ্তাহ গড়ায় , মাস ফুরায় , এদিকে আমার বয়সও বাড়তে থাকে । কিন্তু সেদিকে আমার কোনাে খেয়াল নেই । আমি আমার কাজে নিমগ্ন । বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে একদিকে আমার দৈহিক লাবণ্য ও কমনীয়তা কমতে থাকে ; অপরদিকে ক্রমশ বড় হতে থাকে আমার কাজের চাপ ও দায়িত্বের পরিধি , চিন্তা – ভাবনায়ও আসতে থাকে বড় ধরনের পরিবর্তন । আমি সকলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে থাকি আর আব্দুল্লাহর মতাে এক তরুণের প্রস্তাব পাওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনি ।

কিন্তু আমার আশায় গুড়ে বালি ! প্রবাদ আছে , পাখি উড়ে গেছে । তার খাবার নিয়ে । আব্দুল্লাহ এখন চার সন্তানের বাবা আর আমি বেচারা এখনও কুমারী বুড়ি আমি আমি গেল আমার বয়স এখন ত্রিশ ছুঁইছুঁই । আশঙ্কাগুলো ঘনীভূত হয়ে আসছে ক্রমশ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে জীবন ! এই তো আমার বান্ধবী ফাতিমা , সে এখন চার সন্তানের মা । অপর বান্ধবীর কোলজুড়ে চাদের মতো ফুটফুটে দুটি মেয়ে । আরেক বান্ধবী স্বামীকে নিয়ে কী যে সুখে দিন । কাটাচ্ছে ! অথচ , তাদের আর্থিক অবস্থা নিতান্তই সাধারণ । আর আমি ….!

আমি নির্ঝঞ্ঝাট আরামে দিনাতিপাত করছি । আসলে আমি আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছি ; নিজের সাথে মিথ্যে বলছি । সত্যিই কি আমি সুখে আছি ? বিশাল জনতার ভিড়ে এক অদ্ভুত নির্জনতা আমায় ছেকে ধরেছে । আমার বয়সের সকল মেয়েই তো একাধিক সন্তানের মা — তারা আদরের সন্তানদের সাথে হাসাহাসি করছে , মধুর স্বরে তাদের সম্বোধন করছে । এদিকে আমার চারপাশে বিচিত্র সব ফিতনা ও পরীক্ষা এসে ভিড় জমাচ্ছে , আমাকে গ্রাস করে ফেলার উপক্রম করছে । কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাকে অশ্লীল ও নির্লজ্জ কাজ থেকে হিফাজত করেছেন । হয়তো এটি আমার মা বাবার দুআ ও সু’নজরের বরকতে হয়েছে ।

একদিন আমি অফিস থেকে ফিরলাম । এরই মধ্যে আমার তীক্ষ মেধা ও কঠিন অধ্যবসায় কর্মক্ষেত্রে আমাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সর্বোচ্চ স্তরে । কিন্তু এই সফলতা আমার কাছে অর্থহীন মনে হয় । আমি কাজ থেকে বাসায় ফিরে দেখি , মা আমার উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখে আমার বালিশের ওপর রেখে দিয়েছেন । তাতে লেখা , “ মেয়ে আমার , অমুক তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে । সে ভালো চাকুরি করে আর তার বয়সও কম । আশা করি , তুমি সায় দেবে যদিও তার অন্য এক স্ত্রী ও ছয়জন সন্তান রয়েছে । দিন কিন্তু চলে যাচ্ছে । বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে আমাকে জানাও ।

আমি চিরকুটটা গভীর মনোযোগে পড়লাম এবং রাগে ফেটে পড়লাম । আমি মাথার চুলের দিকে তাকালাম । মাঝে মাঝে সাদা হয়ে ওঠা চুলগুলাে লুকাতে এরই মধ্যে আমি কলপ লাগাতে শুরু করেছি । ভাবতে ভাবতে কান্নায় ভেঙে পড়লাম আমি । শেষ পর্যন্ত এমন একজন লােকও আমাকে প্রস্তাব দিল !? আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেল । রেগেমেগে সেই সন্ধ্যায় আমি বাবার কাছে গেলাম । তাকে বললাম , কীভাবে আপনারা এমন একজন মানুষের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন যার ছয়টা সন্তান আছে ? আমার পিতার উত্তরটি আমার অন্তরে ধারালো ছুরির মতাে বিদ্ধ হলাো ।

কয়েক মাসে আমাদের কাছে এমন বিবাহিতরা ছাড়া, অন্য কেউ প্রস্তাব নিয়ে আসেনি । আমার ভয় হয় কিছুদিন পর হয়তো এমন সময় আসবে , যখন প্রস্তাব আসাই বন্ধ হয়ে যাবে । মেয়ে আমার , মুরব্বিরা একটা কথা বলতেন , মেয়েরা গাোলাপের মতাে ছিড়তে দেরি করলে এর পাপড়িগুলাে ক্রমশ শুকিয়ে আসে । আমার মনে হয় , তুমিও এই পর্যায়ে পৌছে গেছ।

মেয়ে , তোমার কাছে তো শত শত প্রস্তাব এসেছিল , তুমি একটা একটা করে সবগুলোকেই প্রত্যাখ্যান করেছ । ও বেশি লম্বা , সে বেশি খাটো , ওর এই দোষ , অমুকের এই সমস্যা ! আর এখন … ? এমন সময় এসেছে , তুমি আর কাউকেই পাচ্ছ না … !

পরের দিন মাগরিবের পর আমি মা – বাবার সাথে কিছুক্ষণ বসলাম । লক্ষ করলাম , তারা আমার দিকে স্নেহ ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন । আমি একজন বয়স্ক কুমারী মেয়ে — যে বিয়ের ট্রেন ফেল করেছে । অথচ , ট্রেন তার চোখের সামনে দিয়েই তার সমবয়স্ক বান্ধবীদের নিয়ে চলে গেছে । ভাবতে ভাবতে আমি কেঁদে ফেললাম । আব্বুকে বললাম , ইস ! আপনি যদি বিষয়টি সামাল দিতেন ! তিনি বললেন , কীভাবে ? আমি বললাম , আপনি যদি আমার হাত ধরে আপনার পছন্দের পাত্রের হাতে আমাকে তুলে দিতেন ! আপনি কি আব্দুল্লাহকে পছন্দ করতেন না , তার প্রশংসা কি আপনি করতেন না ? আপনি কি আপনার খালাতো ভাইকে পছন্দ করতেন । , তার প্রশংসা করতেন না ?

আব্বু , আপনি যদি তখন এমনটি করতেন , আমি এখন আপনাকে তিরস্কার করতাম না । হায় , আপনি যদি এর জন্য আমাকে প্রহার করতেন !! বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম । এখন আর কোনাে যুবকই আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসে না । না লম্বা , না খাটো ; না ধনী , না দরিদ্র — কেউ আসে না । কল্পনার কোনাে রাজপুত্র কিংবা স্বপ্নের কোনাে নায়ক । কারও দেখা মিলে না । অর্থহীন প্রতীক্ষার বিদঘুটে আফসোসগুলো ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমশ । হৃদয়জুড়ে অনুতাপের হাহাকার । জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলাে তুলে ধরলাম আমার মতাে বোনদের কল্যাণের জন্য । আমি চাই না , আমার মতাে করুণ পরিণতি আর কোনাে বোনের হােক …।

 সূত্র : ইয়া আবি ! জাওয়্যিজনি।

চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় থেকে সাবধান।

#সচেতনতামুলক_পোষ্ট
বয়স ২৫ বছর । চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় ৫-১০ মিনিট। বিনিময়ে তাকে কিছু বকশিশ দেয়। একদিন ঘাড় মালিশ করার সময় কট করে একটা আওয়াজ হয়, একটু সামান্য ব্যথাও করে উঠেছিল। কিন্তু ছেলেটি অতটা গ্রাহ্য করেনি। দু-এক দিন পর সে ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করতে লাগল। ক্রমে ব্যথা বাড়ছে। মা ভাবলেন, হয়তো উল্টাপাল্টাভাবে শোয়ার জন্য ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। মা প্রতিদিন ঘাড়ে গরম সেঁক দিতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুতেই ব্যথা কমছে না; বরং দিনদিন বাড়ছেই। একপর্যায়ে ব্যথা হাতের মধ্য আঙ্গুল পর্যন্ত আসতে শুরু করল। ব্যথার জন্য ঘাড় নাড়ানোও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠল। শেষ পর্য়ন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে, চিকিৎসক পরীক্ষা করে বললেন, সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলেপস হয়েছে ।
ঘাড়ের এম আর আই (MRI) ও নার্ভ কনডাকশন স্টাডি পরীক্ষা করে সেটি প্রমাণিত হলো। মেরুদণ্ডের দু্টি হাড়ের মাঝে এক ধরনের ডিস্ক থাকে সেখান থেকে স্মায়ুগুলো বের হয়ে এসে আমাদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। যখন কোন কারণে ওই ডিস্ক সরে যেয়ে স্মায়ুর উপর চাপ দেয় তখন ব্যথা ঘাড় থেকে হাতের দিকে আসে এটাকে সারভাইক্যাল ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রলেপস বলে ।
এক্ষেত্রে চিকিৎসা হল ঔষধের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিশ্রাম অর্থাৎ হাটাচলা বা মুভমেন্ট করা যাবে না, এমন অবস্থায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ২-৪ সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থেকে দিনে ২-৩ বার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয়। এটাতে অবস্থার উন্নতি না হলে অপারেশনও লাগতে পারে।
আলোচ্য বালকটির এই সমস্যাটি কেন হলো ? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নরসুন্দর ঘাড়- পিঠ মালিশ করে বিভিন্ন ভঙ্গিমায়ে কোন কোন সময় মাথার ওপর চাপ দেয়, কখনো ঘাড় বাঁ দিকে ও ডান দিকে কাত করে। এসব মালিশ ঘাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে ঘাড়ের স্মায়ুতে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
পরামর্শঃ
* সেলুনে গিয়ে কখনো ঘাড় বা মাথা মালিশ করাবেন না।
* ঘাড় কখনো খুব বেশি পেছনে বা পাশে কাত করতে দেবেন না। এতে হঠাৎ করে সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলেপস হয়ে যেতে পারে ৷

Tuesday, 1 June 2021

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

তারা বলল,
 হে জুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ তো পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দেব যে আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন? 
[সুরা : কাহফ, আয়াত : ৯৪ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : 
বাদশাহ জুলকারনাইন তাঁর রাজ্য জয়ের সফরে বের হয়ে এমন এক জাতির মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের ভাষা বোঝা দুষ্কর ছিল। আকার-ইঙ্গিতে কিংবা কোনো অনুবাদকের মাধ্যমে তারা ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচার থেকে মুক্তির দাবি জানায়। 

ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস হচ্ছে নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)-এর হাদিসটি।
 
ওই হাদিসের শুরুর অংশ আগের পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। সে চারদিকে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। গোটা পৃথিবী ফিতনায় ভরে যাবে। এ অবস্থায় ঈসা (আ.)-এর আগমন ঘটবে। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এর মাধ্যমে দাজ্জালের ফিতনা চিরতরে ধ্বংস হবে। এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন জাতিকে বের করব, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই। তাই ঈসা (আ.)-কে মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে তুর পর্বতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি মুসলমানদের নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের রাস্তা খুলে দেবেন। তাদের দ্রুত চলার কারণে মনে হবে যেন ওপর থেকে পিছলে নিচে এসে পড়ছে। তাদের প্রথম দলটি তবরিয়া উপসাগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পানি পান করে এমন অবস্থা করে দেবে যে দ্বিতীয় দলটি এসে সেখানে কোনো দিন পানি ছিল—এ কথা বিশ্বাস করতে পারবে না।
ঈসা (আ.) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অন্য মুসলমানরা নিজ নিজ দুর্গে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন। পানাহারের সামগ্রী সঙ্গে থাকবে; কিন্তু তাতে ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে একটি গরুর মস্তককে ১০০ দিনারের চেয়ে উত্তম মনে করা হবে। ঈসা (আ.) ও অন্য মুসলমানরা কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। তিনি মহামারি আকারে রোগব্যাধি পাঠাবেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াজুজ-মাজুজের গোষ্ঠী মরে যাবে। অতঃপর ঈসা (আ.) সঙ্গীদের নিয়ে তুর পর্বত থেকে নিচে নেমে এসে দেখবেন পৃথিবীতে তাদের মৃতদেহ থেকে অর্ধহাত পরিমিত স্থানও খালি নেই। মৃতদেহ পচে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা দেখে ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীরা আবার আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, যেন এই বিপদও দূর করে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা এ দোয়াও কবুল করবেন এবং বিরাটাকার পাখি প্রেরণ করবেন, যাদের ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের মতো। পাখিগুলো মৃতদেহগুলো উঠিয়ে যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, সেখানে ফেলে দেবে। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, মৃতদেহগুলো সাগরে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কোনো নগর ও বন্দর এ বৃষ্টি থেকে বাদ থাকবে না। ফলে গোটা ভূপৃষ্ঠ ধৌত হয়ে কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ভূপৃষ্ঠকে আদেশ করবেন, তোমার পেটের সমুদয় ফল-ফুল উদিগরণ করে দাও এবং নতুনভাবে তোমার বরকতগুলো প্রকাশ করো। ফলে তা-ই হবে। পৃথিবীতে এমন বরকত প্রকাশিত হবে যে একটি ডালিম এক দল লোকের আহারের জন্য যথেষ্ট হবে। মানুষ তার ফল দ্বারা ছাতা তৈরি করে ছায়া লাভ করবে। দুধে এত বরকত হবে যে একটি উষ্ট্রীর দুধ এক দল মানুষের জন্য এবং একটি গাভির দুধ এক গোত্রের জন্য আর একটি ছাগলের দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। ৪০ বছর ধরে এই অসাধারণ বরকত ও শান্তি-শৃঙ্খলা অব্যাহত থাকবে। এরপর কিয়ামতের সময় সমাগত হবে। আল্লাহ তাআলা একটি মনোরম বায়ু প্রবাহিত করবেন। এর পরশে সব মুসলমানের বগলের নিচে বিশেষ এক ধরনের রোগ দেখা দেবে এবং সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। শুধু কাফির ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। তারা ভূপৃষ্ঠে জন্তু-জানোয়ারের মতো খোলাখুলি অপকর্ম করবে। তাদের ওপরই কিয়ামত আসবে। (মা’আরেফুল কোরআন)

Monday, 31 May 2021

চামলিজা মসজিদ: সুলতান এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের জানান দিচ্ছে যে স্থাপনা।

চামলিজা মসজিদ: সুলতান এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের জানান দিচ্ছে যে স্থাপনা

মসজিদের শহর হিসেবে ঢাকার পরিচয় থাকলেও রাজকীয় মসজিদের শহরের বিষয়ে যদি কথা উঠে তাহলে ইস্তাম্বুলকে ছাড়িয়ে যাবে এমন সাধ্য আর কোনো শহরের নেই। ইস্তাম্বুলের এই রাজকীয় মসজিদগুলোর প্রত্যেকটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে কোনো না কোনো অটোমান সুলতানের নাম। অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতানরা নিজেদের নামে অনিন্দ্য সুন্দর সব মসজিদ তৈরি করতেন যা শত শত বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। 

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, অটোমান শাসকের অর্থায়নে সর্বশেষ হামিদিয়ে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। ১৮৮৪-৮৬ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের ৩৪তম সুলতান দ্বিতীয় হামিদ নিজের নামে মসজিদটি তৈরি করেন। এরপর ১৯২৩ সালে যখন কামাল আতার্তুক ফ্রান্স থেকে ধার করে আনা ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করেন তারপর থেকে এরদোয়ানের আগ পর্যন্ত কোনো শাসকের তত্ত্বাবধানে বা নির্দেশে কোনো মসজিদ তৈরি হয়নি দেশটিতে।

আতার্তুক ক্ষমতায় থাকাকালীন তুরস্কের সরকার, রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে বিদায় করে পাশ্চাত্য মুখী এক রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৩৫ সালে আতার্তুক ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া মসজিদকে যাদুঘরে রূপান্তর করে আরো একবার রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কামাল পাশার আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ছিল রাজধানীকে ইস্তাম্বুল থেকে সরিয়ে আঙ্কারায় নিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে তিনি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আধুনিক তুরস্ক আর অটোমান সাস্রাজ্যের দিকে ফিরে যাবে না। বরং আতার্তুক পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে তুরস্কের ইসলামী ঐতিহ্যকে চরমভাবে ধ্বংস করেছিলেন। 

তুরস্কের আবারও ইসলামী ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার জন্য আতার্তুকের বিপরীত মতাদর্শী একজন নেতার প্রয়োজন ছিল। অবশেষে তুর্কিরা সেই নেতাকে খুঁজে পেয়েছে। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যিনি ইতোমধ্যে সুলতান এরদোয়ান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন। এরদোয়ান উঠে এসেছেন তুরস্কের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবার থেকে। সত্তরের দশকে ইসলামিক রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে যখন তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান তুরস্ক তখন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। এরপর ক্রমান্বয়ে তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র থেকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

বর্তমানে তুরস্কের রাজনীতি থেকে বিশ্ব রাজনীতি সবখানেই এরদোয়ানের দোর্দণ্ড প্রতাপ। সেক্যুলার তুরস্ককে ক্রমান্বয়ে ইসলামের দিকে ধাবিত করছেন তিনি। আতার্তুক যেখানে আয়া সোফিয়ার নামের পাশে থেকে মসজিদ নামটি কেটে দিয়েছিলেন, এরদোয়ান পুনরায় তা প্রতিস্থাপন করেছেন। এখানেই শেষ নয়। ১৯২৩ সালের পর থেকে তুরস্কের প্রথম শাসক হিসেবে গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণ করেছেন যার নাম 'চামলিজা মসজিদ', যা ইতোমধ্যে 'এরদোয়ান মসজিদ' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ যেখানে একসাথে ৬৩ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে ৩৫০০ স্কয়ার মিটারের আর্ট গ্যালারি, ৩০০০ স্কয়ার মিটারের কনফারেন্স হল, যেখানে একসাথে ১০৭১ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ভেতরে ৩৫০০ গাড়ী পার্কিং করার ব্যবস্থা আছে। চামলিজা মসজিদের স্ট্রাকচার থেকে শুরু করে দরজা জানালার কাঁচ ও রং পর্যন্ত অটোমান নকশায় তৈরি।

চামলিজা মসজিদ এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তিনি এক নতুন তুরস্ক প্রতিষ্ঠার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। যে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ইসলামিক ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজ গঠনের চেষ্টা করছে। এবং পাশ্চাত্য অভিমুখ থেকে সরে এসে প্রাচ্যের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরদোয়ানের চামলিজা মসজিদ অনেক বার্তা বহন করে। অটোমান সুলতানরা ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ নির্মাণ করতে পছন্দ করতেন। এতে করে মসজিদ পুরো ইস্তাম্বুল শহর থেকে দেখা যেতো। এরদোয়ানও সেই পথে হেঁটেছেন। বরং নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছেন। তিনি তার মসজিদ নির্মাণ করেছেন ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া 'চামলিজা'য়। এই চূড়ার নাম অনুসারেই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও লোকমুখে এখন তা এরদোয়ান মসজিদ নামেই পরিচিত।

চামলিজা মসজিদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তার মিনার সংখ্যা। এই মসজিদে মোট ৬টি মিনার রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মিনার ১০৭.১ মিটার উঁচু, যা ১০৭১ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে বিপক্ষে সেলজুকদের মানজিকার্ট যুদ্ধ জয়কে। বাকি দুইটি মিনারের উচ্চতা ৯০ মিনার। ইস্তাম্বুলে চামলিজা মসজিদ ছাড়া একমাত্র সুলতান আহমেদ মসজিদ বা ব্লু মস্কে ছয়টি মিনার আছে। 

চামলিজা মসজিদের ৭২ মিটার উঁচু গম্বুজ কয়েক মাইল দূর থেকে দৃষ্টিগত হয়, যা মূলত ইস্তাম্বুলের ৭২টি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় বহন করে। আর ৩৪ মিটার উঁচু গম্বুজ দ্বারা ইস্তাম্বুল শহরের গাড়ীর নম্বর প্লেটকে বুঝায় তথা ইস্তাম্বুলের পরিচয় বহন করে, যে শহরের সাধারণ মানুষ ১৯৯৪ সালে এরদোয়ানকে মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শহরের রূপ বদলে দিয়েছেন রাতারাতি। মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের সাফল্যই পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রের, সরকারের প্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেছে। একে একে জিতেছেন ১৩টি নির্বাচন। যা তুরস্কের রাজনীতির ইতিহাসের আর কোনো নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট। ইস্তাম্বুলে তার প্রতিষ্ঠিত সুলেমানিয়ের মসজিদের গম্বুজের উচ্চতা ৫৩ মিটার। যা আয়া সোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদকে ছাঁড়িয়ে এত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সুলতান সুলেমানের মসজিদকেও ছাড়িয়ে গেছে চামলিজা তথা এরদোয়ান মসজিদের গম্বুজ। তবে কী সুলতান এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান সুলেমানকেও ছাড়িয়ে যেতে চান? সম্ভবত তার রাজনৈতিক লক্ষ্য তেমনই। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল উত্তরে পোল্যান্ড, দক্ষিণে সোমালিয়া, পশ্চিমা মরক্কো আর পূর্বে ইরান পর্যন্ত। এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের হারানো প্রতিপত্তি কতটুকু উদ্ধার করতে পারবেন তা সময়ই বলে দিবে। তবে অটোমানদের একসময়ের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যে নতুন সুলতানের আগমন ঘটেছে তা পরিষ্কার। তিনি হলেন সুলতান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান৷