Friday, 18 June 2021

ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবা।

ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবা। 
প্রায় ১০০০ বছর পূর্বে সৈয়দ শেখ আবদুল কাদির জিলানী (র) মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট খুতবাটি দিয়েছিলেন। 

তিনি মিম্বরে উঠে বললেন, "এক হাজার মসজিদ বানানোর চেয়ে একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির পেটে কিছু খাবার পৌঁছানো উত্তম। দামি কাপড়ের গিলাফ দিয়ে মসজিদুল কাবাকে ঢেকে ফেলার চেয়ে ক্ষুধার্তকে খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। সারারাত নামাজ ও সিজদায় দাঁড়িয়ে থাকার চেয়েও মহৎ কাজ এটি। খোলা তরবারী হাতে জিহাদ করার চেয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্তকে পেটপুরে খাওয়ানো। প্রচন্ড গরমের দেশে সারা বছর রোজা রাখার চেয়েও মহৎ কাজ এটি। রুটির আটা যখন ভুখা মানুষের মুখ গহ্বর থেকে পেটের দিকে নামতে থাকে তখন তার মাঝে একটি আধ্যাতিক নূর থাকে যার আলো সূর্যের আলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যিনি ক্ষুধার্তকে খাওয়ান তাঁর জন্যে সুসংবাদ রয়েছে।"

হিজরির পঞ্চম শতকে তাঁর লেখা "গুনইয়াতুত তালিবিন" গ্রন্থে তৎকালীন সময়কার ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য আল্লাহ তাঁর লেখনীতে অনেক জ্ঞানের কথা ঢেলেছেন। 

তিনি বলতেন, শুধু প্রতিমাপূজার নামই শিরক নয়, প্রবৃত্তির দাসত্ব করাও শিরকের শামিল। মুমিনের কাজ তিনটি - আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইচ্ছার সাথে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া। 

তিনি আরো বলতেন, প্রথমে ফরজ, পরে সুন্নত ও তারপরে নফল। ফরজ ছেড়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে মশগুল থাকা বোকামী। সুন্নত বাকি রেখে নফলে মনোযোগী হবারও কোনো মূল্য নেই। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলতেন, ফরজ ছেড়ে দিয়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে থাকা বাদশাহকে পরিত্যাগ করে গোলামের খিদমতে আত্মনিয়োগের শামিল। 

শায়খ আবদুল কাদের জিলানি (রহ)কে আমাদের দেশে "বড়পীর" নামে যে ধারণা আর মর্যাদা দেয়া হয় প্রকৃত শায়খের সাথে এর কোন মিল নেই। 
 
হিজরি পঞ্চম শতকে তৌহিদি দর্শন ও অনৈসলামিক দর্শন একাকার হয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে ইসলাম। তখন তিনি শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের নির্ভুল পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। শায়খ জিলানি বৈরাগ্য শিক্ষা দেননি। আবার তিনি দুনিয়াকে পরিমাণমতো উপভোগ করতেও নিষেধ করেননি। তবে দুনিয়াকে উপাসনা, দাসত্ব করা আর ভালোবাসতে নিষেধ করেছেন। 
বলা হয় তাঁর ফিলসফির মুলতত্ব ছিলো রাসুল (সা) এর একটি কথা, --"অবশ্যই পৃথিবীকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আর তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পরকালের জন্য।"

পার্সিয়ার কাস্পিয়ান সাগরের তীরে জিলান শহরের অধিবাসী হবার কারণে তাঁর নামের শেষে জিলানী যুক্ত হয়ে যায়। অনুরোধ থাকা স্বত্বেও তিনি জীবনে কখনো কোন বাদশাহ বা সুলতানের সামনে যাননি। 
হিজরি ৬৬২ সালে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর চার স্ত্রীর গর্ভে ২৭ পুত্র ও ২২ কন্যা জন্মগ্রহণ করেছিলো।

প্রতিবছর ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে যে দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয় সেটি এই মনীষীর মৃত্যুর দিন।

Thursday, 17 June 2021

টাকার চেয়ে মেধা পাচার বেশি হতাশা

টাকার চেয়ে মেধা পাচার বেশি হতাশার.........
আচ্ছা খবর দেখলাম মঙ্গল গ্রহের জন্য ড্রোন তৈরিতে বিশ্বের ২৬ টি দলের মধ্যে সেরা দশে রয়েছে বাংলাদেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ড্রোন। বুয়েট ও কুয়েটের তৈরি ড্রোন মঙ্গল গ্রহে চলতে সক্ষম। কত ক্যলকুলেশন করে তৈরি করতে হয়েছে হিসেব আছে?? 
আবার বাংলাদেশের তৈরি মঙ্গলযানও নাসায় সেরা হয়েছিল। সবাই তো মহাখুশি। আচ্ছা এতে লাভ কি হচ্ছে?? এই মেধাবী ছেলেগুলো যারা প্রজেক্ট এ অংশ নিলো তারা অনার্স শেষে কোথায় যায়??
 বিজ্ঞানের ছাত্র হচ্ছে পুলিশের এডমিন। যে ড্রোন বানাতো সে দিনরাত পড়াশোনা করবে কাস্টম অফিসার হওয়ার জন্য। আর যারা এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছেড়ে বিদেশে পারি জমাবে তারা জীবনের একটা পর্যায়ে Airbus, boeing, lockheed martin,nasa এর মতো বড় বড় এরোস্পেস কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পাবে। 
তাহলে এই যে প্রতিবছর বুয়েটে কুয়েটে আমাদের মতো সাধারণ টেক্স পেয়ারদের শত শত কোটি টাকা বাজেট দিয়ে এই ছেলেদের পড়ানো হচ্ছে এতে দেশের কি লাভ হচ্ছে?? তাঁরা দেশের জন্য কিছু উদ্ভাবন ও করছেনা বরং বিদেশে পারি জমাচ্ছে।
 কতদিন আগে জানতে পারলাম বিশ্বের সেরা যুদ্ধবিমানের জন্য যে শক্তিশালী পাতলা শংকর ধাতুর প্রয়োজন ছিল সেটার উদ্ভাবন করেছে একজন বাংলাদেশী। উনি তার সারা জীবনে চাকরি জীবনে হয়তো এক হাজার কোটি টাকাই বেতন পেয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই এফ-১৬ দিয়ে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। 
যাইহোক এই মেধাগুলোর জন্য কি দেশে কর্মসংস্থান করা যায়না?
বাংলাদেশে কি ড্রোনের চাহিদা নেই?? সামরিক বাহিনীতে তো অনেক চাহিদা। শত শত কোটি টাকার ড্রোন কেনা হয়। এখন যদি সরকার বলে ১০০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট। সেনাবাহিনীর জন্য এই এই মানের একটা ছোট আকৃতির নজরদারি ড্রোন লাগবে। যাদের ডিজাইন পাশ হবে তারা পাবে একশো কোটি। তারপর এরকম ২০০/৩০০ ড্রোন ক্রয় করা হবে। তখন বেসরকারি কোম্পানীগুলো পাগলের মতো এইসব ছাত্রদের চাকরি দিবে। হ্যা বেসরকারি কোম্পানীকে সুযোগ দিতে হবে। সরকারি কোম্পানি কি করতে পারে তা চিনিকল, বিআরটিসি এর মতো প্রতিষ্ঠান দেখলেই বুঝা যায়।
যাইহোক এইসব কোম্পানি গুলোকে ধাপে ধাপে বড় কাজের টেন্ডার দিতে হবে। এতে দেশের টাকা দেশে থাকবে। ছেলেগুলো বিদেশে পারি জমাবেনা। আর দেশ আত্মনির্ভর হবে। যে ছেলেগুলো মঙ্গলের মতো উঁচুনিচু পাথরের ভূমির জন্য রোবট তৈরি করে সেরা হতে পারে। তারা কি পারবেনা বোম্ব ডিসপোজাল রোবট বানাতে?? কিন্তু এগুলো আমাদের বিদেশ থেকে ক্রয় করতে হয়। 
যারা বোম্ব ডিসপোজাল রোবট বানাতে পারবে তারা কি পারবেনা জাতিসংঘ মিশনে ব্যবহারের জন্য আইইডি ডিসপোজাল রোবট বানাতে?? যদি ২০২০ সালে তারা ৫ কিমি রেঞ্জ এর রকেট বানাতে পারে তাহলে ২০৩০ সালে তারা ১০০ কিমি রেঞ্জের মিসাইল ও বানাতে পারবে। যারা আজকে ৫ কেজি পো লোডের ড্রোন বানাতে পারবে তারা ৫/১০ বছর পর ১০০ কেজি লোডের ড্রোন ও‌ বানাতে পারবে। তারা পারবে কামিকাজি ড্রোন বানাতে।
প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা কত খাতে ক্ষতি হয়। যদি এরকম গবেষণায় টাকা ব্যয় হয় তাহলে দেশের ছেলেগুলোর একটা চাকরিও হলো মেধাগুলোর সঠিক ব্যবহার হলো। বেসরকারি বড় ২/৪ টা কোম্পানি গুলোকে এরকম প্রজেক্ট দিয়ে সুযোগ দিয়ে ট্রাই করেই দেখুন তারাই বিদেশ থেকে কত প্রকৌশলী প্রযুক্তি এনে মারামারি শুরু করবে প্রজেক্ট জেতার জন্য। দিনশেষে লাভ কিন্তু আমাদেরই। 
*সংগৃহীত*

Wednesday, 16 June 2021

তারিক বিন জিয়াদ : ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম সেনাপতি

তারিক বিন জিয়াদ : ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম সেনাপতি

ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত দেশ স্পেন, যে দেশের বেশিরভাগ(৬৮%) মানুষ রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। মুসলিম প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ কজন জানে এ দেশটি একসময় মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল! এ দেশটিকে ঘিরে রয়েছে মুসলিমদের গৌরবের ইতিহাস! এ ইতিহাস দু’এক বছরের নয়, কয়েক শত বছরের ইতিহাস এটি। স্পেনে কয়েক’শ বছর ধরে কায়েম ছিল মুসলিম শাসন।

আর স্পেনে এ মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন তারিক বিন জিয়াদ নামের এক সেনাপতি। তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম বীর সেনাপতি। কিন্তু তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন বা কোন বংশোদ্ভূত ছিলেন- সেসব সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে প্রায় কিছুই জানা যায় না।
কোন কোন ইতিহাসবিদের মতে, তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন হামাদানের একজন পারস্য বংশোদ্ভূত লোক। আবার কেউ মনে করেন, তিনি কিন্দাহ গোত্রের একজন মুক্ত আরব অধিবাসী ছিলেন। অনেকের ধারণা, তিনি উত্তর আফ্রিকার বার্বার বংশোদ্ভূত লোক ছিলেন। তবে অধিকাংশ আরব ও স্পানিশ ইতিহাসবিদ এ বিষয়ে প্রায় একমত যে তারিক বিন জিয়াদ ইফ্রিকিয়ার( বর্তমান তিউনিশিয়া, পশ্চিম লিবিয়া ও পূর্ব আলজেরিয়া নিয়ে গঠিত ছিল রোমান সাম্রাজ্যের আফ্রিকা প্রদেশ। এ প্রদেশকে ইফ্রিকিয়া বলা হতো) আমির মুসা বিন নুসাইরের একজন দাস ছিলেন। পরে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন ও নিজের সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করেন। অবশ্য তারিকের বংশধররা পরে তার দাস হওয়ার বিষয়টা অস্বীকার করেছিল বলে জানা যায়।
৭১০-৭১১ সালে মরক্কোর তানজিয়ার জয় করলে মূসা বিন নুসাইর তারিক বিন জিয়াদকে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত করেন। তানজিয়ারের পাশেই অবস্থিত ছিল স্পানিশ শহর সিউটা। মুসা বিন নুসাইর চেয়েছিলেন সিউটা দখল করতে। কিন্তু তানজিয়ার জয় করলেও সিউটা মুসলিমদের কাছে সে সময় পর্যন্ত অজেয়ই থেকে যায়। সিউটা শহরটি সেসময় ভিসিগথ গোত্রের জুলিয়ান নামক একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল।
৭১০ সালের দিকে স্পেনের ক্ষমতায় আসেন হিসপানিয়ার(আইবেরিয়ান উপদ্বীপ) ভিসিগথিক শাসনকর্তা রডেরিক। রডেরিক ক্ষমতায় আসলে সিউটার শাসনকর্তা জুলিয়ান, প্রথানুযায়ী, তার কিশোরী কন্যাকে শিক্ষার্জনের জন্য ভিসিগথিক রাজার দরবারে পাঠান। কিন্তু সেটিই হয় জুলিয়ানের জীবনের সবথেকে বড় ভুলের একটি। রডেরিক জুলিয়ানের কন্যাকে ধর্ষণ করেন। সেই অত্যাচারের বিচার না পেয়ে জ্বলে ওঠেন জুলিয়ান। প্রতিশোধের নেশায় তিনি হাত মেলান মুসলিমদের সাথে। তিনি তার এলাকায় আমন্ত্রণ জানান তারিক বিন জিয়াদকে। মুসলিমদেরকে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালী গোপনে পার করে দেয়ার ব্যাপারে তিনি তারিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।
এর ফলে, জুলিয়ানের সহায়তায়, নতুন ধর্মান্তরিত মুসলিম ও নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে গঠিত তারিকের বাহিনী ৭১১ সালের ২৯ এপ্রিল স্পেনের সীমানায় একটি পাহাড়ের নিকটে অবতরণ করেন। যা বর্তমানে জিব্রাল্টার নামে পরিচিত। জিব্রাল্টার নামটি আসলে আরবি ‘জাবাল আত তারিক’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ’তারিকের পাহাড়’। অর্থাৎ তারিকের নামানুসারেই জিব্রাল্টারের নামকরণ করা হয়।

জিব্রাল্টারে পৌঁছেই তারিক বিন জিয়াদ তার এবং তার সৈন্যদের বহনকারী সব নৌযান পুড়িয়ে দেন। এটি দেখে তার একজন সৈন্য যখন হতবুদ্ধি হয়ে তার কাছে জানতে চান, কেন তিনি এমন করলেন? তারা এখন ফিরবে কেমন করে? তারিক তখন শান্তভাবে জবাব দিয়েছিলেন, ‘ফিরে যাবার জন্য তো আমরা আসিনি। হয় বিজয় হবে নতুবা মৃত্যু’। যুদ্ধে জয়লাভের ব্যাপারে এমনই বদ্ধপরিকর ছিলেন তারিক বিন জিয়াদ।

তারিকের সেনাবাহিনীতে মাত্র ৭০০০জন সৈন্য ছিল। তার সাথে মুসা বিন নুসাইর আরও ৫০০০সৈন্য পাঠিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। স্পেনের সম্রাট রডেরিক তারিকের এই স্বল্প সংখ্যক সৈন্যবাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য এক লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তবু তারিকের অসাধারণ নেতৃত্ব, তার সৈন্যবাহীনির অসীম সাহসীকতা ও বীরত্বের কাছে হার মানতে হয়েছিল রডেরিককে।

রডেরিকের বিশাল সৈন্যবাহীনিকে মোকাবিলা করতে হবে শুনে প্রথমে তো তারিকের সৈন্যরা ভয় পেয়ে যায়। তারা সংখ্যায় এত কম ছিল যে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের ছিল অসীম সাহসী আর প্রেরণাদায়ী এক নেতা, তারিক বিন জিয়াদ। জানা যায়, যুদ্ধের পূর্বে তার সৈন্যবাহীনিকে সামনে রেখে তারিক বিন জিয়াদ এক যুগান্তরী ভাষণ দিয়েছিলেন। তারিক বিন জিয়াদ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,

” হে আমার সৈন্যগণ, কোথায় পালাবে তোমরা? তোমাদের পেছনে সাগর, আর সামনে শত্রু। তোমাদের কাছে আছে কেবল দৃঢ়তা এবং সাহস। মনে রেখো, এদেশে তোমরা সেই এতিমদের চেয়েও দূর্ভাগা যাদের অর্থলোভী মালিকরা তাদের বিক্রি করে দেয়। তোমাদের সামনে শত্রু, যাদের সংখ্যা অগণিত। কিন্তু তোমাদের শুধু তলোয়ার ব্যতীত কিছুই নেই। তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে কেবলমাত্র যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবন ছিনিয়ে আনতে পারো। তোমাদের সামনে আছে শত্রুকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনার সুবর্ণ সুযোগ। যদি তোমরা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারো তবে জয় নিশ্চিত। ভেবোনা আমি তোমাদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যাব, আমিই সবার সামনে থাকব এবং আমার বাঁচার সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীণ।”

কাজ হয়েছিল তারিকের এই বক্তৃতায়। উদ্দীপিত হয়েছিল সৈন্যরা। তিনি তার সৈন্যবাহিনীকে সাথে নিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তা চা্ইলে কোন বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। রডেরিকের ১,০০,০০০ সৈন্যও তাই তারিকের মাত্র ১২০০০সৈন্যকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

যুদ্ধের সময় তারিক বিন জিয়াদ তার সৈ্ন্যদলকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কর্ডোভা, গ্রানাডা ও অন্যান্য অঞ্চল জয় করতে পাঠান। এসময় তিনি মূল সেনাদলের সাথে অবস্থান করেন। তারা টলেডো ও গুয়াদালজার জয় করে। ৭১১ সালের ১৯জুলাই হিস্পানিয়ার (স্পেন) গুয়াডালেট নামক স্থানে মুসলিমদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ভিসিগথিক রাজা রডেরিক পরাজিত ও নিহত হন। এর ফলে ভিসিগথ রাজ্যে তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিমরা চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভ করে।
স্পেনে মুসলিমদের এই বিশাল জয়ের খবর শুনে তড়িঘড়ি করে স্পেনে আসেন মুসা বিন নুসাইর। এরপর তারিক বিন জিয়াদ এবং মুসা বিন নুসাইর দুই বীর সেনাপতি মিলে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চল জয় করেন চরম সাহসিকতা আর বীরত্বের সাথে। এ বিজয়ের পর প্রায় সাড়ে সাতশ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। আর এ বিজয়গুলো এত কম সময়ের মধ্যে, আর এত সফলভাবে এসেছিল যে তারিক বিন জিয়াদের নাম মধ্যযুগের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে খুব মর্যাদার সাথে উচ্চারিত হয় আজও।

(C)

Thursday, 10 June 2021

আমি একজন বয়স্ক কুমারী মেয়ে — যে বিয়ের ট্রেন ফেল করেছে

বাবার গৃহে আমি ছিলাম খুবই আদুরে মেয়ে । আমার কোনো চাওয়াই অপূর্ণ থাকত না । পাঁচ ভাইয়ের একটি মাত্র বোন বলে আমার স্নেহ – ভালোবাসা ও আদর – যত্নেও কোনো ত্রুটি হতো না।

 সবাই আমার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখত । আমার সকল আবদার পরিবারের সকলে বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিত । আর আমার চেতনার পুরােটা জুড়েই ছিল পড়ালেখা । লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে আমি মোটেও রাজি হতাম না । আর এতে আমার সাফল্যও ছিল বেশ ঈর্ষণীয় । তাই সকলের কৌতূহলী দৃষ্টি আমাকে অনুক্ষণ ঘিরে রাখত এবং সবাই আমাকে একটু কাছে পেতে উদগ্রীব থাকত । আমার সময়গুলো বরাবরের মতো বেশ ভালোই কাটছিল । সময়ের পরিক্রমায় আমি মাধ্যমিক স্তরে উত্তীর্ণ হলাম ।

একদিন মায়ের দেওয়া একটি সংবাদে প্রথম বারের মতো কাঁপুনি ধরল আমার হৃদয়ে । তিনি বললেন , অমুক তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে । তখন আমি কিছুটা আশ্চর্য ও অহংকার – মাখা স্বরে বললাম , পরিবারের লোকেরা কি আমাকে নিয়ে তামাশা করছে !? এই যে প্রস্তাব আসা শুরু হলো — এর পর থেকে এত ঘন ঘন প্রস্তাব আসতে লাগল যে , আমার অন্য বান্ধবীদের সবার মিলেও বোধহয় এত প্রস্তাব আসত না । একবার তো এক বান্ধবীকে গোপনে বলেই ফেললাম , মনে হচ্ছে আমাদের শহরের সব যুবকই আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে , কেউ আর বাকি থাকবে না ।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করা পর্যন্ত প্রস্তাব আসার এই ধারা অব্যাহত থাকল । তবে এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এল । আমি সর্বদা একই প্রশ্ন করতাম , ছেলের যোগ্যতা কী ? তার মধ্যে কী কী গুণ আছে ? আমি তোমাদের কাছ থেকে কিছুই লুকাব না । বিভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তরুণেরা , বিচিত্র সব পেশার যুবকেরা এবং সম্রান্ত পরিবারের ছেলেরা আমার পরিবারের কাছে সম্বন্ধ পাঠাত । বরং আমি তাে এই পর্যন্ত বলব , একবার ‘আব্দুল্লাহ নামের অসাধারণ এক যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেয় , যে জ্ঞানে – গুণে এতটা সমৃদ্ধ ছিল যে , আর দশজন পুরুষ মিলেও তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না । তবুও আমি তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলাম । কারণ , আমি সুন্দরী , আমি মেধাবী — আমার একটা অবস্থান আছে । পড়ালেখার পাট চুকিয়ে যখন কর্মজীবনে পা রাখলাম , সম্বন্ধ আসর ধারা । আরও বেড়ে গেল। তবে এতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল । যারা প্রস্তাব নিয়ে আসছে তাদের বয়স খানিকটা বেশি — ত্রিশের আশেপাশে ! যদিও আমার অন্তরে বিপদঘণ্টা বেজেই চলছিল , কিন্তু আজকের আগে কখনােই তা আমি শুনতে পাইনি ।

 সময় তার গতিতে বয়ে চলছে । এরই মধ্যে এমন একটি প্রস্তাব এল , যা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয় । জানো , সেটা কী ? এমন এক লােক প্রস্তাব নিয়ে আসে , যে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে এবং তার একটি সন্তান আছে । এরূপ প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে বড় একটা ধাক্কা খেলাম । পরক্ষণেই বললাম , বেচারি ! আমার অবস্থা জানে না , আমি কে ? তার জন্য আমার এক ধরনের করুণা হলাে ।

দিন যায় , সপ্তাহ গড়ায় , মাস ফুরায় , এদিকে আমার বয়সও বাড়তে থাকে । কিন্তু সেদিকে আমার কোনাে খেয়াল নেই । আমি আমার কাজে নিমগ্ন । বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে একদিকে আমার দৈহিক লাবণ্য ও কমনীয়তা কমতে থাকে ; অপরদিকে ক্রমশ বড় হতে থাকে আমার কাজের চাপ ও দায়িত্বের পরিধি , চিন্তা – ভাবনায়ও আসতে থাকে বড় ধরনের পরিবর্তন । আমি সকলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে থাকি আর আব্দুল্লাহর মতাে এক তরুণের প্রস্তাব পাওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনি ।

কিন্তু আমার আশায় গুড়ে বালি ! প্রবাদ আছে , পাখি উড়ে গেছে । তার খাবার নিয়ে । আব্দুল্লাহ এখন চার সন্তানের বাবা আর আমি বেচারা এখনও কুমারী বুড়ি আমি আমি গেল আমার বয়স এখন ত্রিশ ছুঁইছুঁই । আশঙ্কাগুলো ঘনীভূত হয়ে আসছে ক্রমশ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে জীবন ! এই তো আমার বান্ধবী ফাতিমা , সে এখন চার সন্তানের মা । অপর বান্ধবীর কোলজুড়ে চাদের মতো ফুটফুটে দুটি মেয়ে । আরেক বান্ধবী স্বামীকে নিয়ে কী যে সুখে দিন । কাটাচ্ছে ! অথচ , তাদের আর্থিক অবস্থা নিতান্তই সাধারণ । আর আমি ….!

আমি নির্ঝঞ্ঝাট আরামে দিনাতিপাত করছি । আসলে আমি আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছি ; নিজের সাথে মিথ্যে বলছি । সত্যিই কি আমি সুখে আছি ? বিশাল জনতার ভিড়ে এক অদ্ভুত নির্জনতা আমায় ছেকে ধরেছে । আমার বয়সের সকল মেয়েই তো একাধিক সন্তানের মা — তারা আদরের সন্তানদের সাথে হাসাহাসি করছে , মধুর স্বরে তাদের সম্বোধন করছে । এদিকে আমার চারপাশে বিচিত্র সব ফিতনা ও পরীক্ষা এসে ভিড় জমাচ্ছে , আমাকে গ্রাস করে ফেলার উপক্রম করছে । কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাকে অশ্লীল ও নির্লজ্জ কাজ থেকে হিফাজত করেছেন । হয়তো এটি আমার মা বাবার দুআ ও সু’নজরের বরকতে হয়েছে ।

একদিন আমি অফিস থেকে ফিরলাম । এরই মধ্যে আমার তীক্ষ মেধা ও কঠিন অধ্যবসায় কর্মক্ষেত্রে আমাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সর্বোচ্চ স্তরে । কিন্তু এই সফলতা আমার কাছে অর্থহীন মনে হয় । আমি কাজ থেকে বাসায় ফিরে দেখি , মা আমার উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখে আমার বালিশের ওপর রেখে দিয়েছেন । তাতে লেখা , “ মেয়ে আমার , অমুক তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে । সে ভালো চাকুরি করে আর তার বয়সও কম । আশা করি , তুমি সায় দেবে যদিও তার অন্য এক স্ত্রী ও ছয়জন সন্তান রয়েছে । দিন কিন্তু চলে যাচ্ছে । বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে আমাকে জানাও ।

আমি চিরকুটটা গভীর মনোযোগে পড়লাম এবং রাগে ফেটে পড়লাম । আমি মাথার চুলের দিকে তাকালাম । মাঝে মাঝে সাদা হয়ে ওঠা চুলগুলাে লুকাতে এরই মধ্যে আমি কলপ লাগাতে শুরু করেছি । ভাবতে ভাবতে কান্নায় ভেঙে পড়লাম আমি । শেষ পর্যন্ত এমন একজন লােকও আমাকে প্রস্তাব দিল !? আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেল । রেগেমেগে সেই সন্ধ্যায় আমি বাবার কাছে গেলাম । তাকে বললাম , কীভাবে আপনারা এমন একজন মানুষের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন যার ছয়টা সন্তান আছে ? আমার পিতার উত্তরটি আমার অন্তরে ধারালো ছুরির মতাে বিদ্ধ হলাো ।

কয়েক মাসে আমাদের কাছে এমন বিবাহিতরা ছাড়া, অন্য কেউ প্রস্তাব নিয়ে আসেনি । আমার ভয় হয় কিছুদিন পর হয়তো এমন সময় আসবে , যখন প্রস্তাব আসাই বন্ধ হয়ে যাবে । মেয়ে আমার , মুরব্বিরা একটা কথা বলতেন , মেয়েরা গাোলাপের মতাে ছিড়তে দেরি করলে এর পাপড়িগুলাে ক্রমশ শুকিয়ে আসে । আমার মনে হয় , তুমিও এই পর্যায়ে পৌছে গেছ।

মেয়ে , তোমার কাছে তো শত শত প্রস্তাব এসেছিল , তুমি একটা একটা করে সবগুলোকেই প্রত্যাখ্যান করেছ । ও বেশি লম্বা , সে বেশি খাটো , ওর এই দোষ , অমুকের এই সমস্যা ! আর এখন … ? এমন সময় এসেছে , তুমি আর কাউকেই পাচ্ছ না … !

পরের দিন মাগরিবের পর আমি মা – বাবার সাথে কিছুক্ষণ বসলাম । লক্ষ করলাম , তারা আমার দিকে স্নেহ ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন । আমি একজন বয়স্ক কুমারী মেয়ে — যে বিয়ের ট্রেন ফেল করেছে । অথচ , ট্রেন তার চোখের সামনে দিয়েই তার সমবয়স্ক বান্ধবীদের নিয়ে চলে গেছে । ভাবতে ভাবতে আমি কেঁদে ফেললাম । আব্বুকে বললাম , ইস ! আপনি যদি বিষয়টি সামাল দিতেন ! তিনি বললেন , কীভাবে ? আমি বললাম , আপনি যদি আমার হাত ধরে আপনার পছন্দের পাত্রের হাতে আমাকে তুলে দিতেন ! আপনি কি আব্দুল্লাহকে পছন্দ করতেন না , তার প্রশংসা কি আপনি করতেন না ? আপনি কি আপনার খালাতো ভাইকে পছন্দ করতেন । , তার প্রশংসা করতেন না ?

আব্বু , আপনি যদি তখন এমনটি করতেন , আমি এখন আপনাকে তিরস্কার করতাম না । হায় , আপনি যদি এর জন্য আমাকে প্রহার করতেন !! বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম । এখন আর কোনাে যুবকই আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসে না । না লম্বা , না খাটো ; না ধনী , না দরিদ্র — কেউ আসে না । কল্পনার কোনাে রাজপুত্র কিংবা স্বপ্নের কোনাে নায়ক । কারও দেখা মিলে না । অর্থহীন প্রতীক্ষার বিদঘুটে আফসোসগুলো ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমশ । হৃদয়জুড়ে অনুতাপের হাহাকার । জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলাে তুলে ধরলাম আমার মতাে বোনদের কল্যাণের জন্য । আমি চাই না , আমার মতাে করুণ পরিণতি আর কোনাে বোনের হােক …।

 সূত্র : ইয়া আবি ! জাওয়্যিজনি।

চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় থেকে সাবধান।

#সচেতনতামুলক_পোষ্ট
বয়স ২৫ বছর । চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় ৫-১০ মিনিট। বিনিময়ে তাকে কিছু বকশিশ দেয়। একদিন ঘাড় মালিশ করার সময় কট করে একটা আওয়াজ হয়, একটু সামান্য ব্যথাও করে উঠেছিল। কিন্তু ছেলেটি অতটা গ্রাহ্য করেনি। দু-এক দিন পর সে ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করতে লাগল। ক্রমে ব্যথা বাড়ছে। মা ভাবলেন, হয়তো উল্টাপাল্টাভাবে শোয়ার জন্য ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। মা প্রতিদিন ঘাড়ে গরম সেঁক দিতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুতেই ব্যথা কমছে না; বরং দিনদিন বাড়ছেই। একপর্যায়ে ব্যথা হাতের মধ্য আঙ্গুল পর্যন্ত আসতে শুরু করল। ব্যথার জন্য ঘাড় নাড়ানোও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠল। শেষ পর্য়ন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে, চিকিৎসক পরীক্ষা করে বললেন, সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলেপস হয়েছে ।
ঘাড়ের এম আর আই (MRI) ও নার্ভ কনডাকশন স্টাডি পরীক্ষা করে সেটি প্রমাণিত হলো। মেরুদণ্ডের দু্টি হাড়ের মাঝে এক ধরনের ডিস্ক থাকে সেখান থেকে স্মায়ুগুলো বের হয়ে এসে আমাদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। যখন কোন কারণে ওই ডিস্ক সরে যেয়ে স্মায়ুর উপর চাপ দেয় তখন ব্যথা ঘাড় থেকে হাতের দিকে আসে এটাকে সারভাইক্যাল ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রলেপস বলে ।
এক্ষেত্রে চিকিৎসা হল ঔষধের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিশ্রাম অর্থাৎ হাটাচলা বা মুভমেন্ট করা যাবে না, এমন অবস্থায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ২-৪ সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থেকে দিনে ২-৩ বার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয়। এটাতে অবস্থার উন্নতি না হলে অপারেশনও লাগতে পারে।
আলোচ্য বালকটির এই সমস্যাটি কেন হলো ? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নরসুন্দর ঘাড়- পিঠ মালিশ করে বিভিন্ন ভঙ্গিমায়ে কোন কোন সময় মাথার ওপর চাপ দেয়, কখনো ঘাড় বাঁ দিকে ও ডান দিকে কাত করে। এসব মালিশ ঘাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে ঘাড়ের স্মায়ুতে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
পরামর্শঃ
* সেলুনে গিয়ে কখনো ঘাড় বা মাথা মালিশ করাবেন না।
* ঘাড় কখনো খুব বেশি পেছনে বা পাশে কাত করতে দেবেন না। এতে হঠাৎ করে সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলেপস হয়ে যেতে পারে ৷

Tuesday, 1 June 2021

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

তারা বলল,
 হে জুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ তো পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দেব যে আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন? 
[সুরা : কাহফ, আয়াত : ৯৪ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : 
বাদশাহ জুলকারনাইন তাঁর রাজ্য জয়ের সফরে বের হয়ে এমন এক জাতির মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের ভাষা বোঝা দুষ্কর ছিল। আকার-ইঙ্গিতে কিংবা কোনো অনুবাদকের মাধ্যমে তারা ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচার থেকে মুক্তির দাবি জানায়। 

ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস হচ্ছে নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)-এর হাদিসটি।
 
ওই হাদিসের শুরুর অংশ আগের পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। সে চারদিকে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। গোটা পৃথিবী ফিতনায় ভরে যাবে। এ অবস্থায় ঈসা (আ.)-এর আগমন ঘটবে। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এর মাধ্যমে দাজ্জালের ফিতনা চিরতরে ধ্বংস হবে। এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন জাতিকে বের করব, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই। তাই ঈসা (আ.)-কে মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে তুর পর্বতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি মুসলমানদের নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের রাস্তা খুলে দেবেন। তাদের দ্রুত চলার কারণে মনে হবে যেন ওপর থেকে পিছলে নিচে এসে পড়ছে। তাদের প্রথম দলটি তবরিয়া উপসাগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পানি পান করে এমন অবস্থা করে দেবে যে দ্বিতীয় দলটি এসে সেখানে কোনো দিন পানি ছিল—এ কথা বিশ্বাস করতে পারবে না।
ঈসা (আ.) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অন্য মুসলমানরা নিজ নিজ দুর্গে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন। পানাহারের সামগ্রী সঙ্গে থাকবে; কিন্তু তাতে ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে একটি গরুর মস্তককে ১০০ দিনারের চেয়ে উত্তম মনে করা হবে। ঈসা (আ.) ও অন্য মুসলমানরা কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। তিনি মহামারি আকারে রোগব্যাধি পাঠাবেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াজুজ-মাজুজের গোষ্ঠী মরে যাবে। অতঃপর ঈসা (আ.) সঙ্গীদের নিয়ে তুর পর্বত থেকে নিচে নেমে এসে দেখবেন পৃথিবীতে তাদের মৃতদেহ থেকে অর্ধহাত পরিমিত স্থানও খালি নেই। মৃতদেহ পচে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা দেখে ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীরা আবার আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, যেন এই বিপদও দূর করে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা এ দোয়াও কবুল করবেন এবং বিরাটাকার পাখি প্রেরণ করবেন, যাদের ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের মতো। পাখিগুলো মৃতদেহগুলো উঠিয়ে যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, সেখানে ফেলে দেবে। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, মৃতদেহগুলো সাগরে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কোনো নগর ও বন্দর এ বৃষ্টি থেকে বাদ থাকবে না। ফলে গোটা ভূপৃষ্ঠ ধৌত হয়ে কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ভূপৃষ্ঠকে আদেশ করবেন, তোমার পেটের সমুদয় ফল-ফুল উদিগরণ করে দাও এবং নতুনভাবে তোমার বরকতগুলো প্রকাশ করো। ফলে তা-ই হবে। পৃথিবীতে এমন বরকত প্রকাশিত হবে যে একটি ডালিম এক দল লোকের আহারের জন্য যথেষ্ট হবে। মানুষ তার ফল দ্বারা ছাতা তৈরি করে ছায়া লাভ করবে। দুধে এত বরকত হবে যে একটি উষ্ট্রীর দুধ এক দল মানুষের জন্য এবং একটি গাভির দুধ এক গোত্রের জন্য আর একটি ছাগলের দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। ৪০ বছর ধরে এই অসাধারণ বরকত ও শান্তি-শৃঙ্খলা অব্যাহত থাকবে। এরপর কিয়ামতের সময় সমাগত হবে। আল্লাহ তাআলা একটি মনোরম বায়ু প্রবাহিত করবেন। এর পরশে সব মুসলমানের বগলের নিচে বিশেষ এক ধরনের রোগ দেখা দেবে এবং সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। শুধু কাফির ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। তারা ভূপৃষ্ঠে জন্তু-জানোয়ারের মতো খোলাখুলি অপকর্ম করবে। তাদের ওপরই কিয়ামত আসবে। (মা’আরেফুল কোরআন)