Tuesday, 1 June 2021

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

ইয়াজুজ মাজুজ প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত

তারা বলল,
 হে জুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ তো পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দেব যে আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন? 
[সুরা : কাহফ, আয়াত : ৯৪ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : 
বাদশাহ জুলকারনাইন তাঁর রাজ্য জয়ের সফরে বের হয়ে এমন এক জাতির মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের ভাষা বোঝা দুষ্কর ছিল। আকার-ইঙ্গিতে কিংবা কোনো অনুবাদকের মাধ্যমে তারা ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচার থেকে মুক্তির দাবি জানায়। 

ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস হচ্ছে নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)-এর হাদিসটি।
 
ওই হাদিসের শুরুর অংশ আগের পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। সে চারদিকে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। গোটা পৃথিবী ফিতনায় ভরে যাবে। এ অবস্থায় ঈসা (আ.)-এর আগমন ঘটবে। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এর মাধ্যমে দাজ্জালের ফিতনা চিরতরে ধ্বংস হবে। এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন জাতিকে বের করব, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই। তাই ঈসা (আ.)-কে মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে তুর পর্বতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি মুসলমানদের নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের রাস্তা খুলে দেবেন। তাদের দ্রুত চলার কারণে মনে হবে যেন ওপর থেকে পিছলে নিচে এসে পড়ছে। তাদের প্রথম দলটি তবরিয়া উপসাগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পানি পান করে এমন অবস্থা করে দেবে যে দ্বিতীয় দলটি এসে সেখানে কোনো দিন পানি ছিল—এ কথা বিশ্বাস করতে পারবে না।
ঈসা (আ.) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অন্য মুসলমানরা নিজ নিজ দুর্গে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন। পানাহারের সামগ্রী সঙ্গে থাকবে; কিন্তু তাতে ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে একটি গরুর মস্তককে ১০০ দিনারের চেয়ে উত্তম মনে করা হবে। ঈসা (আ.) ও অন্য মুসলমানরা কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন। তিনি মহামারি আকারে রোগব্যাধি পাঠাবেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াজুজ-মাজুজের গোষ্ঠী মরে যাবে। অতঃপর ঈসা (আ.) সঙ্গীদের নিয়ে তুর পর্বত থেকে নিচে নেমে এসে দেখবেন পৃথিবীতে তাদের মৃতদেহ থেকে অর্ধহাত পরিমিত স্থানও খালি নেই। মৃতদেহ পচে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা দেখে ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীরা আবার আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, যেন এই বিপদও দূর করে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা এ দোয়াও কবুল করবেন এবং বিরাটাকার পাখি প্রেরণ করবেন, যাদের ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের মতো। পাখিগুলো মৃতদেহগুলো উঠিয়ে যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, সেখানে ফেলে দেবে। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, মৃতদেহগুলো সাগরে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কোনো নগর ও বন্দর এ বৃষ্টি থেকে বাদ থাকবে না। ফলে গোটা ভূপৃষ্ঠ ধৌত হয়ে কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ভূপৃষ্ঠকে আদেশ করবেন, তোমার পেটের সমুদয় ফল-ফুল উদিগরণ করে দাও এবং নতুনভাবে তোমার বরকতগুলো প্রকাশ করো। ফলে তা-ই হবে। পৃথিবীতে এমন বরকত প্রকাশিত হবে যে একটি ডালিম এক দল লোকের আহারের জন্য যথেষ্ট হবে। মানুষ তার ফল দ্বারা ছাতা তৈরি করে ছায়া লাভ করবে। দুধে এত বরকত হবে যে একটি উষ্ট্রীর দুধ এক দল মানুষের জন্য এবং একটি গাভির দুধ এক গোত্রের জন্য আর একটি ছাগলের দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। ৪০ বছর ধরে এই অসাধারণ বরকত ও শান্তি-শৃঙ্খলা অব্যাহত থাকবে। এরপর কিয়ামতের সময় সমাগত হবে। আল্লাহ তাআলা একটি মনোরম বায়ু প্রবাহিত করবেন। এর পরশে সব মুসলমানের বগলের নিচে বিশেষ এক ধরনের রোগ দেখা দেবে এবং সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। শুধু কাফির ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। তারা ভূপৃষ্ঠে জন্তু-জানোয়ারের মতো খোলাখুলি অপকর্ম করবে। তাদের ওপরই কিয়ামত আসবে। (মা’আরেফুল কোরআন)

No comments:

Post a Comment